হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী অভিযোগ নিয়ে গণশুনানির আয়োজনে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার একটি চক্রই ব্যাগেজ চুরি থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম করে থাকে। গণশুনানিতে বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট দেরি হলে যাত্রীদের সঠিক সময়ে না জানানো এবং সম্প্রতি ভারতের বাজেট এয়ারলাইন্স স্পাইসজেটের চাকা শাহজালালে ফেটে যাত্রী দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারলাইন্সটিকে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রবিবার বাংলাদেশ বিমানের সকাল সোয়া দশটার লন্ডন ফ্লাইটটিও কারিগরি ত্রুটির কারণে বিলম্বের কথা তুলে ধরা হয়। তবে যাত্রীদের সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানান হয়নি। লন্ডনগামী যাত্রীরা প্রায় দুঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন।
রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ শুনানির আয়োজন করে। এতে যাত্রীদের উপস্থিতি না থাকলেও উপস্থিত সাংবাদিকরাই নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
গতকাল রবিবার বেবিচকের কার্যালয় সংলগ্ন এমটি প্রাঙ্গণে ওই গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান, সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান, বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) মোঃ হেমায়েত হোসেন, সদস্য (অর্থ) মোঃ আব্দুল হাই, সদস্য (নিরাপত্তা) মোঃ এমদাদুল হক প্রমুখ। এ ছাড়াও গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের পরিচালক ফারহাত হাসান জামিল, কাস্টমার সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক আতিক সোবাহানসহ বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা।
গণশুনানিতে যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং, লাগেজ চুরি, রানওয়ের নানা সমস্যা, বার্ড শুটার, নিরাপত্তাসহ যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসে। এ প্রেক্ষাপটে বেবিচক চেয়ারম্যান উপস্থিত হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। তবে এ ধরনের অপকর্মে বিমান, সিভিল এভিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট একটি চক্র জড়িত রয়েছে।
অতিরিক্ত চার্জ ধরার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের বিমান বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তো চার্জ নির্ধারণ করি না, এটা সরকার থেকে করা হয়। অতিরিক্ত চার্জের কারণে অনেক বিমান বন্ধ হয়েছে, এটি সত্য নয়। কেউ ব্যবসা খারাপ করলে চলে যায়। আবার কেউ কেউ ব্যবসা করতে আসে।
বিমানবন্দরে লাগেজ চুরির বিষয়টি জোরালোভাবে গণশুনানিতে উঠে আসে। তবে চুরি আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে গেছে বলে দাবি করেন বেবিচক চেয়ারম্যান। বিমানবন্দরে পাখি আসার বিষয় তুললে নাঈম হাসান বলেন, ‘আমাদের বার্ড শ্যুটার আছে। তারপরও মাঝে-মাঝে রানওয়েতে পাখি আসে। আমরা চেষ্টা করি যাতে কোনো পাখি না আসে।’
