লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাদুর বেপারী বাড়িতে সোমবার রাত ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ধর্ষিতা কিশোরী ভোলাকোট ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) স্পীনা রানী প্রমানিক ও থানা অফিসার ইনসার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল ও পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ধর্ষক ঈমন, রাসেল ও শরীফকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের ওই মেয়ের সঙ্গে পাশ্ববর্তী ভাদুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাদুর গ্রামের ওমর আলী মিঝি বাড়ির মৃত ইব্রাহীমের ছেলে শাওনের প্রায় একবছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এরই সুবাদে শাওনের প্ররোচনায় পালিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ওই মেয়ে সোমবার দিবাগত রাত ১১টায় নিজের প্রয়োজনীয় জামা কাপড় ও নগদ টাকা নিয়ে পশ্চিম ভাদুর গ্রামের বেপারী বাড়িতে শাওনের বন্ধু ইমনের ঘরে আসে। পরে শাওন তাকে বিয়ে না করে তার বন্ধু ইমন, রাসেল ও শরীফ ধর্ষণ করার পর তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা রেখে বের করে দেয়। পরে মারাত্বক আহত অবস্থায় ওই মেয়ে এক নারীর ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পঃ ভাদুর গ্রামের বেপারী বাড়ির মতিনের ছেলে ইমন হোসেন (২৩) ও একই গ্রামের অজিউল্যা ভূঁইয়া বাড়ির মোঃ তোতা মিয়ার ছেলে শরীফ (২৫) এবং উজির আলী বেপারী বাড়ির আতর মিয়ার ছেলে রাসেলকে (২৪) আটক করেছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীকে হাসপালে ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা নিরীক্ষারপর প্রকৃত তথ্য জানানো যাবে।
রামগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইমন, শরীফ ও রাসেলকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি

