রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তারুণ্যের ‘সাবাস বাংলাদেশ’

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১৪

 

২৪ বছর শোষণ-বঞ্চনা, ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারুণ্যের

জয়-বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত  বাংলার আকাশ-বাতাস। স্মৃতিমাখা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে তরুণদের আত্মত্যাগের গল্প। জাতির গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতি নিয়ে নির্মিত

‘সাবাস বাংলাদেশ’ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন—মো. উমর ফারুক

 

তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমাখা দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিতে দেশের বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পী নিতুন কুন্ডুর হাতে নির্মিত হয়েছে ‘সাবাস বাংলাদেশ’। দিনটি ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২। বিশ্ববিদ্যালয়ের তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবন চত্বরে নির্মিত ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন শহিদ জননী জাহানারা ইমাম। মূল ভাস্কর্যের দুই জন যুবককে খালি গায়ে ৪০ ফুট বেদির ওপরে উপস্থাপন করা হয়েছে। একহাতে রাইফেল ধরা মুষ্টিবদ্ধ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অন্যহাতে উপরে উথিত লুঙ্গিপড়া ব্যক্তিটি মাথায় গামছা বেঁধে গ্রামীণ যুবা ও কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে। প্যান্ট পড়া অন্যজন প্রতিনিধিত্ব করছে শহরে যুবাদের। তার দুই হাতে রয়েছে রাইফেল, কোমড়ে গামছা বাঁধা, বাতাসে পেছনে উড়ে গেছে চুলগুলো। সিঁড়ি ওপরের মঞ্চের ঠিক পিছনের দেওয়ালের গায়ে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সমাজের সব মানুষের মিছিলের দৃশ্যকে ধারণ করা হয়েছে। রাইফেল হাতে যুবক-যুবতী, একতারা হাতে বাউল, গেঞ্জি পড়া এক কিশোর তাকিয়ে আছে পতাকার দিকে। মূলত বাংলার জনজীবনে এক জ্বলন্ত ছবি এঁকেছেন শিল্পী নিতুন কুন্ডু। তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধে গণমানুষের সম্পৃক্ততার কথা। মূল ভার্স্কযের পশ্চাতে রয়েছে ৩৬ ফুট উঁচু একটি স্তম্ভ; যার ভেতরে পাঁচ ফুট ব্যাসের গোলাকার শূন্যতা যা উপস্থাপন করা হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার প্রতীক হিসেবে। এ ভাস্কর্যের মুক্তিযোদ্ধাদ্বয় সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্য রূপ, লড়াইয়ের দৃঢ়তা, প্রতিশোধ প্রচণ্ড স্পৃহা আর বিজয়ের নেশায় মত্ত। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘সাবাস বাংলাদেশ’ কবিতার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে এই ‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্য। যা বাঙালি জাতির মুক্তিযুদ্ধকালীন তেজস্বী ভূমিকাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাঙালির দৃঢ় মনোবল, মুক্তির প্রচণ্ড স্পৃহা, সীমাহীন কষ্ট, অসীম ত্যাগের বিনিময়ে ভস্মাবশেষ থেকেই উদ্ভব হয়েছে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ডের। বাঙালি জাতির বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের স্মৃতি ‘সাবাস বাংলাদেশ’ তরুণ প্রজন্মকে অকতোভয় সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে লালন করে গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।