>> জসিম উদ্দিন
কথায় আছে, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তাই তো মানুষ স্বপ্ন দেখে। তেমনি স্বপ্ন দেখেছিলেন জয়িতা ব্যানার্জি। তিনি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন কম্পিউটার নিয়ে কিছু করার। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন উদীয়মান তরুণ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রথম সেমিস্টার ফি দিতেই হিমশিম খেয়েছিলেন। প্রথমে জয়িতা শুরু করেছিলেন টিউশনি। কিন্তু সেই টাকায় অবস্থার তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় আউটসোর্সিং শুরু করেন তিনি। এখন মাসে তার আয় গড়ে ১ হাজার ৬০০ ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী জয়িতা ব্যানার্জি আমাদের জানিয়েছেন তার ফ্রিল্যান্সার হয়ে ওঠার গল্প। বন্ধুদের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের খোঁজ পান তিনি, কিন্তু আউটসোর্সিংয়ের কিছুই জানতেন না। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন, আউটসোর্সিংয়ের কোর্স ফি ১১ হাজার টাকা। কিন্তু তখন তার হাতে এই পরিমাণ টাকা ছিল না। তিনি জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের শুরু থেকেই আউটসোর্সিংয়ের কাজ খোঁজা শুরু করেন। মনোযোগ দেন ইংরেজিতে প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনি (কনটেন্ট রাইটিংয়ে) লেখায়। প্রথমে আউটসোর্সিংয়ের বড় মার্কেট (অনলাইন মার্কেট পয়েন্টেস) আপ-ওয়ার্কের ১৮টি প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু কেউ তাকে কাজ দেয়নি।
ইউটিউবের ভিডিও দেখে সেগুলো চর্চা করা শুরু করলেন। সেগুলো শিখে ইংরেজিতে ভালো ভ্রমণকাহিনি লেখা শুরু করেন। ভালো ইংরেজি জানা বন্ধুদের দেখিয়ে ভুল শুধরে নিতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি দুই সপ্তাহ টানা পরিশ্রমের পর আবার নেট দুনিয়ায় কাজ খোঁজা শুরু করেন। এর মধ্যে আপ-ওয়ার্কে নিজের প্রোফাইলেও পরিবর্তন এনে লিখলেন ‘আমি একদম নতুন, আমি কাজ করতে চাই’। নতুন প্রোফাইলে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ চাইলে তারা জয়িতার সাক্ষাত্কার নিয়ে সন্তুষ্ট হয়। জুটে যায় কাজ। একটি কনটেন্ট লেখার জন্য এক ডলার মজুরি। এক সপ্তাহ যাওয়ার পর মজুরি বেড়ে হয় তিন ডলার। এভাবে এপ্রিল মাসে এসে আয় দাঁড়ায় ১০৫ ডলার। কনটেন্ট রাইটিংয়ের পাশাপাশি ডেটা এন্ট্রির কাজও রপ্ত করেন তিনি।
মাসে ৬০০ ডলারের চুক্তিতে যুক্ত হন ‘কিউএসআর’ নামের সংগীত প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজও শেখেন। টুকটাক ডিজাইন করে আরো ২০০ ডলার করে আয় শুরু করেন। তবে গ্রাফিক্সের কাজে নিয়মিত ছিলেন না। ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এভাবে চলল। ওই বছরের জুন মাসে যুক্ত হন নিউইয়র্কের একটি স্টার্টআপ রাইড শেয়ারিং কোম্পানি ‘ট্যাক্সি ল্যান্ড ব্রোকারেজ’-এ। মাসে ৭৫০ ডলারের চুক্তিতে তাদের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজটি তিনি করতেন। এছাড়া ‘ফাইভার’-এ অ্যাকাউন্ট করে গ্রাফিক্স ডিজাইনেও নিয়মিত কাজ করতে থাকেন।
এখন আছেন ‘বেলে বার অরগানিক’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে। মজুরি ঘণ্টায় ১৬ ডলার। সপ্তাহের পাঁচ দিনে পাঁচ ঘণ্টা করে কাজ করেন। পড়াশোনা, আউটসোর্সিং ও ফ্রিলান্সিং কিভাবে একসঙ্গে করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর একটি অফিসে জব করি। সেখানে দু-তিন ঘণ্টার মতো সময় দিতে হয়। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাসায় ফিরি। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে আউটসোর্সিং। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া বেশির ভাগ ক্লাসেই শেষ করি।’ নতুন যারা আউটসোর্সিং করতে চান, তাদের জন্য জয়িতার পরামর্শ হলো, যারা ফ্রিলান্সিংয়ে আসতে চাইলে চারটি বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। যেমন :প্রচুর রিসার্চ করা উচিত, ধৈর্য নিয়ে এফোর্ট দেওয়া উচিত, কারো জন্য বসে থাকা উচিত নয়, ইন্টারনেট সেক্টর শেখার জন্য বড় একটা জায়গা সেখানে চোখ রাখা উচিত। যে কোনো কাজে দক্ষ না হয়ে যাওয়া উচিত নয়।
