৯-৩০ অক্টোবর ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
ফজলে ইলাহী স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি বছর ইলিশ জোনভুক্ত জেলা হিসেবে প্রথম খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও বঞ্চিত থাকছে তালিকাভুক্ত তিন সহস্রাধিক জেলে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে মত্স্য মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেশি হলেও সহায়তা না পাওয়ায় এবং নদীতে মাছ ধরতে না পারায় সংকটে পড়েছেন জেলেরা।
কুড়িগ্রাম জেলা মত্স্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, ‘এরই মধ্যে আমরা তালিকাভুক্ত শতকরা ৬০ ভাগ জেলেকে চাল সহায়তা দিয়েছি। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যেই বরাদ্দকৃত সব জেলেকে চাল দেওয়া শেষ হবে। চারটি উপজেলায় বরাদ্দকৃত চাল দেওয়া শেষ হয়েছে। এখন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় তালিকভুক্ত জেলেদের দিলেই বরাদ্দ শেষ হবে। তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামের ইলিশ জোনে ৭ হাজার ৯৩৫ তালিকাভুক্ত জেলের মধ্যে ৪ হাজার ৭৬১ জন জেলেকে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ১৭৪ জন জেলে ২০ কেজি চাল বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবশিষ্ট জেলেদের বিষয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে চেষ্টা করেছি, সরকারের আর বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই।’
কুড়িগ্রাম জেলা মত্স্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলাকে (কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, নাগেশ্বরী, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) ইলিশ জোনের আওতায় আনা হয়েছে।
খাদ্য সহায়তাবঞ্চিত ধরলা পাড়ের জেলে মফিজল হক, ব্রহ্মপুত্র পাড়ের জেলে নবান্ন কুমার একাধিক জেলেরা বলেন, ‘হামরা মাছ মারি খাই, হামার ফির কিসের তালিকা। শুনছি মাছ মারা বন্ধ, হামার প্যাট তো মানে না। কাঁইয়ো তো চাউলও দিলে না। নদীতে মাছ ধরা তো বন্ধ রাখছি, কিন্তু খামো কী।’
চিলমারী উপজেলা মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ভোন্দল চন্দ্র দাস জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুমে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাও ইলশ জোনভুক্ত করায় জেলেরা সরকারের সিদ্ধান্তে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু অনেক জেলে সরকারের বরাদ্দকৃত চাল না পাওয়া ও মাছ ধরতে না পারায় কষ্টে আছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছাম্মত সুলতানা পারভীন বলেন, ‘তালিকাভুক্ত যেসব জেলের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তাদের যথা সময়ে বণ্টন করা হয়েছে। কিন্তু যেসব জেলে এখনো পাননি তাদের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি নতুন বরাদ্দ নিয়ে এরই মধ্যে বাকি জেলেদেরও বিতরণ করা হবে।’
চলতি মাসের ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকার, বিক্রি ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।
