বলিভিয়ায় জয়ের পথে মোরালেস, সহিংসতা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১১

বিবিসি ও রয়টার্স

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন। সোমবার সর্বশেষ ভোট গণনায় এমনটা দেখা যাওয়ার পর দেশটিতে বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হয়েছে।

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রবিবার ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হওয়ার পর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্ত ফলাফলে দ্বিতীয় দফা রান-অফ ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। রাতে একপর্যায়ে ভোট গণনা স্থগিত হয়। সেই সময় নির্বাচনী দপ্তরের ওয়েবসাইটে ভোটের প্রাথমিক ফলাফল ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত আপডেট দেখানো হয়েছিল। ঐ সময় মোরালেস ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসার ভোট ছিল ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ।

সোমবার ভোট ৯৫ শতাংশ গণনার পর নতুন আপডেটে দেখা যায় মোরালেস ৪৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন আর প্রতিদ্বন্দ্বী মেসার ভোট ৩৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোরালেসের ১০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে যাওয়ার অর্থ তিনি সরাসরি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, ডিসেম্বরের রান-অফ ভোটের আর দরকার হচ্ছে না এটি পরিষ্কার হয়ে যায়।

মোরালেসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেসা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। একদল পর্যবেক্ষক এই পরিবর্তনকে ‘ব্যাপক ও ব্যাখ্যা করা কঠিন’ বলে বর্ণনা করেছেন। রাতে যখন গণনা স্থগিত হয়েছিল, তখন মোরালেস তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, গ্রামীণ এলাকাগুলো থেকে আসা ভোট যখন গণনা হবে, তখন রান-অফের আর প্রয়োজন থাকবে না বলে বিশ্বাস তার। ইলেকটোরাল অবজারভেশন মিশন অব দি অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘চূড়ান্ত গণনার ফলাফলে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে বলে আমরা আশা করছি।’

মেসা এই ফলাফল মানবেন না বলে জানানোর পর তার সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল বের করা শুরু করে। প্রতিবাদকারীরা সুক্রে ও তারিহা আঞ্চলিক নির্বাচনী দপ্তরে আগুন দেয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। অপরদিকে রাজধানী লা লাপাজে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

প্রসঙ্গত, মোরালেস ২০০৬ থেকে একটানা প্রেসিডেন্ট হিসেবে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আছেন। স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে প্রথম প্রেসিডেন্ট তিনি। এবারের নির্বাচনেও তাকে জয়ী ঘোষণা করা হলে তিনি ২০২৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হলেই প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন না মোরালেস। বলিভিয়ার সংবিধানে পরপর দুইবারের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তাই চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে হলে মোরালেসকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।