রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি না রাখলে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ফের অভিযান শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান। এদিকে সিরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে তেলক্ষেত্রগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য সেখানে কিছু মার্কিন সেনা রেখে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সীমান্ত এলাকা থেকে কুর্দি গেরিলাদের সরে যাওয়ার শর্তে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত সপ্তাহে ‘অপারেশন পিস স্প্রিংয়ে’ পাঁচ দিনের বিরতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আঙ্কারা। গতকাল মঙ্গলবার ছিল এই যুদ্ধবিরতির দিন। রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে এরদোয়ান বলেন, সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় তুরস্ক যে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়তে চায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে কুর্দিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ওয়াশিংটন তা না রাখলে আঙ্কারা ‘দৃঢ় সংকল্পসহ’ ফের ঐ অভিযান শুরু করবে।
তুরস্কের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে তত্পরতা চালানো কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ওয়াইপিজি গেরিলাদের সংযোগ আছে সন্দেহে আঙ্কারা সিরীয় এ কুর্দিদেরও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার সীমান্ত অঞ্চল থেকে ওয়াইপিজি গেরিলাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) সরিয়ে নিতে বলেছিল। রাশিয়া সফরে এরদোয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সিরিয়ার সাংবিধানিক কমিটি কী করে সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জন করতে পারে, তা নিয়েও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন এরদোয়ান। অক্টোবরের শেষ দিকে সিরিয়ান এ সাংবিধানিক কমিটির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সেনাদের ইরাকে নেওয়া হলেও সিরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে তেলক্ষেত্রগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য কিছু সেনা রেখে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেলক্ষেত্রগুলো যাতে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর হাতে না পড়ে সেজন্য তেলক্ষেত্রগুলোর কাছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর যোদ্ধাদের পাশাপাশি কিছু মার্কিন সেনা রেখে দেওয়া হতে পারে। পেন্টাগন এমন চিন্তাভাবনাই করছে বলে সোমবার জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। আফগানিস্তান ভ্রমণে গিয়ে এসপার সাংবাদিকদের বলেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পাশাপাশি এখনো কিছু সেনা মিত্রবাহিনী এসডিএফের সঙ্গে তেলক্ষেত্রগুলোর কাছে অবস্থান করছে। তাদেরই কয়েকজনকে সেখানে রেখে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিকল্প পন্থা হিসেবে ভেবে দেখা হচ্ছে। কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কতজনকে রাখা হবে বা এরকম কোনো কিছুও এখনো ঠিক করা হয়নি।’
