স্পোর্টস রিপোর্টার
গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের প্রথম দাবিই ছিল কোয়াবের (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ। কোয়াব ক্রিকেটারদের পক্ষে কাজ করছে না, ক্রিকেটারদের পাশে থাকে না কোয়াব এমন অভিযোগেই নাঈম ইসলাম পেশ করেছিলেন কোয়াবের শীর্ষ পদের সবার পদত্যাগের দাবি।
গতকাল সকাল থেকে বিসিবিতেও খবর ছড়িয়ে পড়েছিল কোয়াব সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল পদত্যাগ করছেন। কিন্তু পড়ন্ত বিকালে দুর্জয় জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করছেন না। গতকাল বিকালে বিসিবির পর সংবাদ সম্মেলন করেছে কোয়াব। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাবেন তারা। ক্রিকেটাররা চাইলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। ক্রিকেটাররা আলোচনায় বসলে, সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখবে কোয়াব।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংবাদ মাধ্যমকে কোয়াব সভাপতি ও বিসিবি পরিচালক দুর্জয় বলেছেন, ‘কোয়াব থেকে আমার পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। আমি বলছি, নির্বাচন আসুক আগে। সেখানে যার সমর্থন সবচেয়ে বেশি, যাকে ক্রিকেটাররা চাইবে—তাকেই নির্বাচিত করবে। সেখানে আমি হই কিংবা অন্য যে কেউ হোক, হতে পারে। অথচ কেউ কেউ বলছে, আমি নাকি পদত্যাগ করছি। কিন্তু এটা ভুল। আমি পদত্যাগ করছি না।’ কোয়াবের প্রতিনিধি হলেও বিসিবির পরিচালক দুর্জয়-সুজন। দেবব্রত পাল বিসিবির বেতনভুক্ত ম্যাচ রেফারি। দুর্জয় বলেছেন, বিসিবিতে ক্রিকেটারদের জন্যই লড়ছেন তারা। সাবেক এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমরা তো এখনও ক্রিকেটারদের জন্যই লড়ে যাচ্ছি। এখনও তাদের নানা সমস্যায় আমরা সব সময়ই কথা বলি, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।’
দুর্জয়ের দাবি, যে কোনো প্রয়োজনে কোয়াবের দ্বারস্থ হন ক্রিকেটাররা। এমন ধর্মঘটে যাওয়ার আগে কোয়াবের সঙ্গে আলোচনা করেননি ক্রিকেটাররা। তিনি বলেছেন, ‘প্লেয়াররা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সব সময়ই আমাদের কাছে আসত; কিন্তু এবার আমাদের কাছে আসেনি তারা। তাদের এসব বিষয় নিয়ে আমরা কিছুই জানতাম না।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে দুর্জয় বলেছেন, কাদা ছোড়াছুড়ি চান না তারা। পরিস্থিতির সমাধান চান। ক্রিকেটাররা এলে কোয়াবের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
বিসিবির এই পরিচালক গতকাল বলেছেন, ‘কোয়াব প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, বোর্ড পরিচালক হিসেবেও নয়, দিন শেষে আমিও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার, অধিনায়ক। যারা দাবি-দাওয়া পেশ করেছে তারাও বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটার। হয়তো বা তারা আমার চেয়ে বড়ো প্লেয়ার। তবে আমরা উভয়ই দেশের জন্য খেলেছি এবং সেটা বাংলাদেশের জন্য। অন্য কোনো দেশের জন্য নয়। আমি কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি চাই না। বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য চলুক, সেটাও কাম্য নয়। তাতে তিক্ততাই বাড়বে শুধু। পরিস্থিতির একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান অবশ্যই কাম্য। কোয়াবের পক্ষ থেকে প্রস্তুত আমরা, আমাদের কাছে এলে আমরা মধ্যস্থতা করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’
