ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াল ফিকা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩১

কোয়াবের

সদস্যপদই

পুনর্মূল্যায়ন

হবে

স্পোর্টস রিপোর্টার

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবির প্রথমটিই ছিল যে, তাদের সম্মান দেওয়া হয় না এবং ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) খেলোয়াড়দের সমস্যা নিয়ে কথা বলে না। গতকাল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চলমান এই আন্দোলনে একমত পোষণ করে তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ফিকা। সে সঙ্গে তারা বলেছে যে, বাংলাদেশে কোয়াবের যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তা তারা করতে পারছে না। ফলে কোয়াবের সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না, সেটা তারা পুনর্বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের একত্রিত হয়ে লড়াই করার ব্যাপক প্রশংসা করে ফিকার নির্বাহী চেয়ারম্যান টনি আইরিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘একত্রিত হওয়ার জন্য এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তাদের প্রাপ্য পাওনার দাবিতে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করছে। বাংলাদেশে খেলোয়াড়দের একতাবদ্ধ হওয়ার কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা এই কাজটি করেছে। এটা প্রমাণ করে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ বলে বিবেচিত একটা জায়গায় আসলে অনেক পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে।’

এরপর টনি আইরিশ বলেছেন, এই একত্রিত হয়ে কথা বলার নেতৃত্বে থাকা উচিত ছিল কোয়াবের। কিন্তু তারা দেখছেন যে, বাংলাদেশে তাদের স্বীকৃত সংস্থা কোয়াব এই ভূমিকা পালন করতে পারেনি, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মনে করেন না যে, তারা যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছেন এবং তাদের ক্যারিয়ার ও জীবনকে যেসব বিষয় প্রভাবিত করছে, সেসব বিষয়ে তাদের কথা শোনা হচ্ছে। আসলে খেলোয়াড়দের অ্যাসোসিয়েশনেরই এই খেলোয়াড়দের কণ্ঠ হওয়া উচিত ছিল। তাদের (কোয়াবের) উচিত ছিল সবার প্রতিনিধি হওয়া। কিন্তু তাদের এই ক্রান্তিকালে ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তাদের ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না। সেই সঙ্গে এটাও দুশ্চিন্তার ব্যাপার যে, কোয়াবের কয়েক জন কর্মকর্তা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিভিন্ন পদে আছেন।’

কোয়াবের ব্যাপারে এই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেই আইরিশ বলেছেন যে, কোয়াবের ভূমিকা যাই হোক, তারা ক্রিকেটারদের পাশেই থাকবেন, ‘এই ঘটনার সামগ্রিক চরিত্র বিশ্লেষণ করে আমরা বিশ্বাস করছি যে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য ফিকার এখন তাদের সমর্থন ও সহায়তা দেওয়া উচিত।’

ফিকার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘তারা এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় কোয়াবের সদস্যপদ নিয়ে ভাববেন।’ বলা হয়েছে যে, ‘এই মাসেই লন্ডনে অনুষ্ঠিত ফিকার বার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যেসব দেশের সংগঠন সত্যিকারের ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বমূলক নয়, তাদের সদস্যপদ বাদ দেওয়া হবে। এই নতুন আইনের আলোকে কোয়াবের সদস্যপদ তারা পুনর্বিবেচনা করবেন বলে বলা হয়েছে। বিশেষ করে তাদের আইনে বলা আছে যে, সব দেশের খেলোয়াড়দের সংগঠনকে প্রশাসনিক সংস্থা থেকে স্বতন্ত্র থাকতে হবে। সেই ব্যাপারটি কোয়াব মানছে বলে মনে করছে না ফিকা।’