নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই কানাডায় সরকার গঠন করছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। দেশটির সিবিসি নিউজ ও সিটিভি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ফল অনুযায়ী আবারও কানাডার ক্ষমতায় আসছে জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি। এ বিজয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন ট্রুডো। তবে তাকে এবার সংখ্যালঘু সরকার গড়তে হবে।
জয়ের পর মন্ট্রিলে এক বক্তৃতায় ট্রুডো বলেন, আজকের রাতে কানাডার জনগণ বিভক্তি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা কাটছাঁট ও কৃচ্ছ্রতাকে বাতিল করেছেন। অন্যদিকে তারা অগ্রগতিশীল এজেন্ডাকে সমর্থন করেছেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জোরালো পদক্ষেপ দেখতে চান। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব।
কানাডার ৩৩৮ আসনের পার্লামেন্টে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৭০টি আসন। গতকাল বিবিসির প্রকাশ করা খবর অনুযায়ী, ট্রুডোর লিবারেল পার্টি অব কানাডা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দলটি ১৫৭ আসনে জয় পেতে চলেছে। বেশি আসন পেলেও দলটিকে এখন একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে। ট্রুডোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজারভেটিভ পার্টি পাচ্ছে ১২১টি আসন। গতবারের চেয়ে ২৬টি আসন বেশি পেতে চলেছে তারা। ব্লক কুবেকুয়া ৩২, নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ২৪ এবং গ্রিন পার্টি তিনটি আসন পেতে চলেছে। জয় পেয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দৃশ্যত সংখ্যালঘু সরকারের সুবিধা পেতে যাচ্ছে বামপন্থি রাজনৈতিক দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এনডিপি)। সেক্ষেত্রে ২৪টি আসন নিয়ে কিংমেকারে পরিণত হতে পারেন দলটির নেতা জগমিত সিং।
এবারের নির্বাচনকে জাস্টিন ট্রুডোর জন্য গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ক্ষমতায় ফেরলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় পার্লামেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে ট্রুডোর। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন আইন পাশ করতে অন্য দলগুলোর শরণাপন্ন হতে হবে তাকে। প্রায় ৪ কোটি মানুষের দেশটিতে এবারের নির্বাচনে মোট ছয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের উদার অভিবাসননীতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রুডো। জলবায়ু ইস্যুতেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। কিছুদিন আগে কিছু বর্ণবাদী ছবির জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রুডো। খবর :বিবিসি ও সিএনএনের।
