‘আবরারকে ডেকে আনি বড়ো ভাইদের নির্দেশে’

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৭

 ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র বড়ো ভাইদের নির্দেশে আবরারকে ডেকে আনি। তারপর তারা মারে। আমি মারিনি।’ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৭ ব্যাচের ছাত্র এ এস এম নাজমুস সাদাত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এ এস এম নাজমুস সাদাতকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানান। পরে মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর খাসকামরায় সাদাত জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর সাদাদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে ভারতে পালানোর সময় দিনাজপুরের বিরামপুর থানার কাটলা বাজার এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ নাজমুস সাদাতকে গ্রেপ্তার করে। তিনি জয়পুরহাটের কালাই থানার কালাই উত্তরপাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে।

জানা গেছে, সাদাত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে বলেন, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে বড়ো ভাইয়েরা আবরারকে শায়েস্তা করার জন্য মিটিং করেন। পরে বড়ো ভাই মেহেদী হাসান রবিন, সকাল, মুজাহিদ, অনীক ও মনির কয়েকজনকে নির্দেশ দেন আবারারকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে আনতে। সাদাত ও অন্য কয়েকজন আবরারকে রাত ৮টায় ডেকে আনেন। এরপর বড়ো ভাইয়েরা আবারারের মোবাইল ও ল্যাপটপ চেক করেন। শিবিরের বিভিন্ন কথা বলে উপস্থিত সবাইকে উত্তেজিত করেন। এরপর তাকে মারধর শুরু হয়। ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটান। কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একসময় আবারর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পানি পানি বলে চিত্কার করেন। কিন্তু তাকে কেউ পানি দেয়নি। তাকে পেটানো শুরু করার পর ঐ কক্ষে উপস্থিত অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন। সাদতসহ কয়েকজন ডাক্তার ডাকার কথা বললেও বড়ো ভাইয়েরা ডাক্তার আনেননি। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাদাত তার কক্ষে চলে যান।

আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিমকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।