ভোলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির কাজ শুরু বিপ্লবের ভগ্নিপতি নিখোঁজ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১০

ভোলার বোরহানউদ্দীনে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে চার জন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসক গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগ ভোলার উপপরিচালক মামুদুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত দল গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য নেন। আজ বুধবার কমিটির রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সময় বাড়িয়ে নেবে বলে জানা গেছে। এদিকে, গতকাল বিকালে ভোলার হাটখোলা মসজিদের সামনে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ হয়নি। সংগঠনের নেতা মাওলানা মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের নেতাকর্মীদের শহরে আসতে দেয়নি।

গত সোমবার বিকাল থেকে বোরহানউদ্দীনের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তারপরও ভোলা শহরসহ বোরহানউদ্দীনের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও বিজিবি সতর্ক দায়িত্ব পালন করছে। জেলার সব মন্দির ও হিন্দু এলাকায় পুলিশের নজরদারি ছিল বলে পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার জানিয়েছেন।

এদিকে, ভোলার পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাত থেকে তিনি তার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না। ভোলা মডেল থানার ওসি মো. এনায়েত হোসেন জানান এ ব্যাপারে ভোলা থানায় জিডি হয়েছে। জিডি নম্বর ৯৯৩।

অন্যদিকে, বোরহানউদ্দিনের সেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভ, যার হ্যাকড ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জার অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্মীয় কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল, তার ভগ্নিপতি বিধান মজুমদার গত সোমবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বিধান মজুমদার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন রৌদের হাটে জুয়েলারি ব্যবসা করতেন। দোকানের একজন কর্মচারীও তার সঙ্গে নিখোঁজ আছেন। বিধান মজুমদারের বাড়ি লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিধানকে গোয়েন্দা পরিচয়ে কয়েকজন তুলে নিয়ে গেছে। 

দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ গ্রামের বিনয় ভূষণ মজুমদার জিডিতে জানান তার ছেলে বিধান মজুমদার ও দোকানের এক কর্মচারী নিখোঁজ রয়েছেন। ওসি আরো জানান তারা বেতার বার্তার মাধ্যমে দেশের সব থানায় নিখোঁজের খবর জানাচ্ছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিনয় মজুমদার জানান, ঐ দুইজনকে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়রা পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন।