জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে (জবি) হেয় প্রতিপন্ন করে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়ারও দাবি করেছেন তারা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে ড. মীজানুর রহমান উপাচার্য পদে থাকার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। আগামী রবিবারের মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার জন্য সময়ও বেঁধে দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৬ অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশনের এক টকশোতে কথা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, যুবলীগের দায়িত্ব পেলে তিনি উপাচার্য পদ ছেড়ে দেবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেও তিনি এখনো যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক নম্বর সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি দায়িত্ব দেন তাহলে তিনি ভিসি পদ ছেড়ে দিয়ে যুবলীগের পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ অনুযায়ী ৮ নম্বর ধারায় লেখা আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। সে হিসেবে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। এই আইনের ৪৪ নম্বর ধারার চার নম্বর উপধারায় উল্লেখ আছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।
কিন্তু উপাচার্য এ আইনের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বক্তব্য দেন যে, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ নয়। উপাচার্যের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জহির উদ্দিন বলেন, জবির উপাচার্য হওয়ার পরও নিজেকে ঢাবির শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন, তাহলে তিনি ঢাবিতেই চলে যাক। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মনে ধারণ করেন না, তাহলে তিনি কেন জবির উপাচার্য পদে বহাল থাকবেন?
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌসিফ মাহমুদ সোহান বলেন, উপাচার্য একাধিকবার বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় করা ঠিক হয়নি। আমরা বলব, তাকে উপাচার্য করা ঠিক হয়নি। তিনি কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দেন সব সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তার আবেগ ও ভালোবাসা নেই। তিনি এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের শিক্ষক বানাতে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দাবি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা মর্যাদা দেবেন, মনে প্রাণে ধারণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন শিক্ষককে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে। পরে এ বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য জানতে তার দপ্তরে গেলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসব এসাইনমেন্টে আসো কেন তোমরা। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আর আন্দোলনকারীরা কেউ সাধারণ শিক্ষার্থী না।
