সীতাকুণ্ডে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন হাসি। ইতোমধ্যেই আমন ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলার কৃষকরা।
সরেজমিন বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার সময় অনেক ধানের জমিতে চিটা থাকা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় কৃষকরা ফলন নিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যায়। মাঠে মাঠে শুরু হয় ধান কাটার উত্সব এবং আমন ধানের গন্ধে ভরে ওঠে কৃষকদের ঘর।
এ দিকে, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়- এ অঞ্চলে ১৬ হাজার ৬৫০ জন কৃষক ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমানের চাষ করে। এরমধ্যে কৃষকরা ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে উফশি এবং ৯৫০ হেক্টর জমিতে কালো জিরা, বিন্নি ও মোডলসহ স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ করে। এবার উফশিতে প্রতি হেক্টরে ফলন হয় ২.৭৫ মেট্রিক টন। এ ছাড়া, স্থানীয় জাতের আমন ধানে প্রতি হেক্টরে ফলন পাওয়া য়ায় ১.৮০ মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। মাহমুদাবাদ এলাকার চাষি মো. এরশাদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমনের ফলন বেশি হওয়ার পাশাপাশি ধান ও খরের চাহিদা থাকায় দামও বেশি বলে আমরা চাষিরা অনেক খুশি। ভাটিয়ারি খাদেমপাড়া এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, আমরা বাম্পার ফলনে ধানের চিটা দেখা গেলেও তা স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে এবং ধানের বাজার দর বেশি থাকায় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ হবে। কারণ নতুন বাজারে তোলা আমন ধান বস্তা প্রতি ১২৮০-১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। যা গতবারের তুলনায় ৩০০/৪০০ টাকা বেশি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফখাত রিয়াদ বলেন, একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের কৃষকদের আত্ম-মনোবলের কারণে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধান গতবারের চেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
