ইত্তেফাক রিপোর্ট
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবেশীদের সহায়তা প্রয়োজন। ভাটির এ দেশের অনেক নদ-নদীর উত্স প্রতিবেশী দেশগুলো। সে জন্য এ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার, চীন, নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে, আরো চাইবে। গতকাল বুধবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে ১০০ বছরের ডেল্টা পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শক সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা সবার সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছি। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী যারা আছে, তাদের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা আরো বাড়বে এবং এই সহযোগিতার মাধ্যমে এগোতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা রয়েছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরিকল্পনাটি উপস্থাপনায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জানান, ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায় ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে ডেল্টা প্ল্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ২৪৮টি প্রকল্প। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ২১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। এছাড়া এই অঙ্ক মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশের সমান। তিনি আরো জানান, বর্তমানে পানিসম্পদ খাতে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ জিডিপির শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, যা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুসারে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
