দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিধার মধ্যে রয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহ পাচ্ছেন না তারা। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নতুন বিনিয়োগে হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে পরিস্থিতি কী হয় সেদিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজারে বড় ভূমিকা রাখা ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ খবরের ফলে ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে ব্যাংকের শেয়ারের দরপতনে সার্বিকভাবে শেয়ারের মূল্যসূচক কমেছে। বছর শেষ হওয়ায় (ইয়ার ক্লোজিং) বাজার থেকে নগদ টাকা উঠে যাওয়ায় কমেছে শেয়ারের দাম। বাজারে গতি ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আইসিবির একার পক্ষে বাজারে ইতিবাচক ফল নিয়ে আসা সম্ভব নয়। বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে বলে তারা মনে করছেন। বাজারের সার্বিক অবস্থা বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আস্থা ও সুশাসনের অভাবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে সবাই। এখন মুনাফার চেয়ে বিনিয়োগ রক্ষা করতে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ নীতিতে চলছেন বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল পর্যন্ত টানা ছয় কর্মদিবস শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই অবস্থা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৮৩টির। আর ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ২৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি মূল্য সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় তিন পয়েন্ট কমে এক হাজার ২০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম এবং মূল্যসূচকের পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জ।
লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওয়াটা কেমিক্যাল, মেঘনা লাইফ, আলহাজ টেক্সটাইল, ন্যাশনাল টি, রূপালী লাইফ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইফাদ অটোস।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৭৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১২০টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির দাম।
