২০০ বছরের মহাশ্মশানে ব্যাপক আয়োজন
বরিশাল অফিস
উপমহাদেশের সর্ববৃহত্ দীপালি উত্সবকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীর মহাশ্মশানে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ উত্সবকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। প্রতিবছর ভূত চতুর্দশী পুণ্য তিথিতে এ উত্সব হয়ে থাকে। দীপালি উত্সব ও মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু ইত্তেফাককে জানান, এ বছর তিথি অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর দীপালি উত্সব এবং পরদিন শ্মশান কালীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উত্সবকে কেন্দ্র করে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এবছরই প্রথম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগে এ উত্সব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিএমপির কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভায় পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা বলয় প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে এ উত্সব পালনের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, বিদ্যুত্ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে এ সভায় নানান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সমাধির ওপর হাজার হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন পূর্বপুরুষকে স্মরণ করবে। উপমহাদেশের মধ্যে এ মহাশ্মশানকে ঘিরে সবচেয়ে বড়ো শ্মশান দীপালি হয় বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান। অন্য কোথাও এ রকম আলোকমালার সজ্জা দিয়ে পূর্বপুরুষের স্মৃতি সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে উত্সব পালন করার নজির নেই। তাই দেশ-বিদেশের স্বজনরা শ্মশান দীপালির সময় এখানে ছুটে আসেন। প্রতি বছর ভূত চতুর্দশীর পূর্ণ তিথিতে সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে এ উত্সব পালিত হয় বলে এর নাম দেওয়া হয় শ্মশান দীপালি। আয়োজক কমিটি জানায়, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মহাশ্মশানে দীপালিতে প্রায় ১ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। যাদের স্বজনরা অনুপস্থিত থাকবেন বেওয়ারিশ হিসেবে তাদের সমাধিও অন্ধকার থাকবে না। পার্শ্ববর্তী সমাধির স্বজনরা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করে স্বর্গীয় আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করবেন।
নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজার এলাকায় ৬ একর জমির ওপর এ মহাশ্মশানের জন্ম বরিশাল নগরীর পত্তনের আগেই। ইতিহাস থেকে জানা যায় ধনাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় নতুন বাজারে প্রথম মহাশ্মশান স্থাপিত হয়। পরে তা কাউনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কালের বিবর্তনে কাউনিয়ার শ্মশানটির উন্নয়ন হলেও নতুন বাজারের প্রায় এক একর শ্মশানের জমি বেদখল হয়ে গেছে। পুরোনো শ্মশানের অধিকাংশ সমাধি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো সেখানে ব্রাহ্মদের দু/তিনটি সমাধি রয়েছে। তার পাশেই রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দা দাশ ও পিতামহ সর্বানন্দা দাশের সমাধি এখনো টিকে আছে।
