ফেসবুকে পোস্ট, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার অনেকেরই ধ্যানজ্ঞান। একই সঙ্গে ফেসবুকের অতি সামান্য ভাসমান জ্ঞানই অনেকের জ্ঞান আহরণের প্রধান ক্ষেত্র, ফেসবুকের ফেক নিউজের বেসাতিই অনেকের সংবাদসূত্র! এমতাবস্থায় যাহা হইবার তাহাই হইতেছে। ফেসবুক দিয়া কিছু মতলববাজ নিজেদের হিংসা-প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিতেছে। সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দীনে ফেসবুক হ্যাক করিয়া ঘটনা হইল ভয়াবহ কাণ্ড, তাহার পরপরই হ্যাক করা হইল ঐ জেলার পুলিশ সুপারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। ইহার পূর্বে ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে হামলার ঘটনা ঘটানো হইয়াছিল ফেসবুকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একজনের নামকে যুক্ত করিয়া ধর্ম অবমাননার দায়ে। একই ধরনের ঘটনা ঘটনা হয় নাসিরনগর এবং রংপুরে। অতঃপর ভোলায়।
কী লাগে ফেসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলিতে? একটি ইন্টারনেট কানেকশন-যুক্ত স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার এবং একটি ইমেইল। ব্যস! আপনি তখন দুনিয়ার রাজা! যাহার-তাহার নামেও আপনি চাহিলে একটি ক্লোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলিতে পারেন। কারণ ফেসবুকে তো ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হাতে গোনা কিছু বিশেষ ব্যক্তির জন্য মাত্র। আর সব অ্যাকাউন্টই যাচাইবিহীন। এই কারণে কোনটা যে প্রকৃত রাম-শ্যাম-যদু-মধুর, আর কোন অ্যাকাউন্টটি দুষ্কর্মের উদ্দেশ্যে তৈরি করা তাহা নির্ধারণ করা সহজ নহে। একই সঙ্গে কাহারো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করিয়া তাহাতে অত্যন্ত আপত্তিকর কিছু পোস্ট করা হইলে উহার সত্যমিথ্যা সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করাও সম্ভব নহে। প্রযুক্তির দুনিয়ায় বেশির ভাগ মানুষই আনাড়ি, শিশুতুল্য। আমাদের অবস্থা এইরকম যে, একদল শিশুর হাতে দেশলাইয়ের বাক্স ধরাইয়া দেওয়া হইয়াছে। আর এই সুযোগে মতলববাজরা অতি সহজেই আগুন লাগাইয়া দিতেছে ঐ দেশলাই বাক্স হইতে বারুদকাঠি ব্যবহার করিয়া। এইসকল কারণে কাউকে ব্ল্যাকমেইল কিংবা হিংসা-প্রতিহিংসা চরিতার্থে ফেসবুক হইয়া উঠিয়াছে সবচাইতে দানবীয় প্ল্যাটফরম। বলা যায়, প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ নানানভাবে নাজেহাল হইতেছেন। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হইতে শুরু করিয়া প্রশাসনের বড়ো কর্মকর্তাদেরও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করিতে বিভিন্ন সময় প্রকাশ হইয়াছে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য কিংবা ফটোশপ করা ছবি। কিছু কিছু মন্তব্য এবং ছবি এতটাই আপত্তিকর যে, বিস্ময় জাগে উহাদের ঔদ্ধত্যের চরম মাত্রা লইয়া। আর এই সকল মন্তব্য এবং ছবি যে কেবল দেশের মধ্যে হইতেই পোস্ট করা হইতেছে, তাহা নহে। ইন্টারনেটের অবারিত জগতে দেশের বাহির হইতেও যে কেহ এই কাজ করিতে পারে। যদিও প্রযুক্তির সহায়তায় এই ধরনের দুষ্কর্মের হোতাদের শনাক্ত করা কঠিন কাজ নহে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তো এত কিছু বোঝে না। সেই কারণে তাহাদের বোকা বানাইতেও বেগ পাইতে হয় না উদ্দেশ্য সাধনকারীদের। ফেসবুক হ্যাক করিবার ঘটনাও বৃদ্ধি পাইতেছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে। অনলাইনে এমন অনেক সফটওয়্যার রহিয়াছে যাহার সাহায্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর নাম এবং পাসওয়ার্ড খুঁজিয়া পাওয়া সম্ভব। রহিয়াছে বিভিন্ন চমকপ্রদ উপায়। ফেসবুক হইল ডাক্তারি ছুরির মতো, মানুষের জন্য দারুণ কাজের, আবার উহা দিয়া খুনও করা যায়। ইহা অবশ্য নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। সুতরাং আমাদের আরো সতর্ক হইতে হইবে প্রযুক্তির এই নাজুক বিষয়গুলি কী করিয়া আরো নিরাপদ করা যায়।
