নদীভাঙনের করাল গ্রাসে দেশ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৪

বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের দরুন নদীর পানি বেড়ে যায় এবং তা প্রচণ্ডগতিতে সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়। তখন নদীর পানির তীব্র তোড়ে নদীর পাড় ভাঙতে থাকে। আর এই নদীর পানির স্রোতে নদীর পাড় ভাঙার অবস্থাকে নদীভাঙন বলে।

নদী কেন ভাঙে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন নদীর গতি রোখার চেষ্টার কারণে নদীভাঙন হতে পারে। অনেক সময় নদীর মাঝখান দিয়ে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় যা ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে। অপরিকল্পিতভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টাও নদীভাঙনের বড়ো কারণ হতে পারে। শহরাঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় খাল বা নালা দখল করে ফেলায় কিংবা অন্য কোনো কারণে সেগুলো বন্ধ করে ফেলায় বর্ষা মৌসুমে নদীর ওপর পানির চাপ অনেক বেড়ে যায়। পানির অতিরিক্ত প্রভাবের চাপ তখন পড়ে পাড়ে। যার ফলে সৃষ্টি হয় নদীভাঙনের। মনুষ্যকর্তৃক সৃষ্ট কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় বননিধনকে। মাটিকে জমাট বেধে রাখতে সহায়তা করে গাছের শিকড়। নদীপাড়ের ঘাস, কাশবনসহ বড়ো বড়ো গাছ কাটার ফলে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। পানির তোড়ে সে মাটি খসে যায়, আর ধীরে ধীরে বড়ো ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন বা ড্রেজিংয়ের জন্যও নদীভাঙনের জন্য অন্যতম কারণ।

বলা যাক আমাদের নদীভাঙনের অবস্থান সম্পর্কিত কিছু কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ নদী পদ্মার করাল গ্রাসে গত ৫১ বছরে বিলীন হয়েছে প্রায় ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। দেশের মোট প্লাবন ভূমির ৫ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের শিকার। বর্তমানে প্রায় ১০০টি থানায় নদীভাঙনসহ বন্যার দুর্ভোগ নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা নাসার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পদ্মার ভাঙন রোধে সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই, নদীর তীরে বালুচর রয়েছে যা দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে ইত্যাদি। পদ্মা নদীর ভাঙন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পূর্বাভাস দিচ্ছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী গত সাত বছরে বাংলাদেশের অন্যতম নদীভাঙন প্রবণ এলাকা শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রায় সোয়া ১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি পলিগঠিত ব-দ্বীপ। এই দ্বীপে ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে হাজার বছর ধরে। আর সেই ভাঙা-গড়ার খেলায় প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলোও খুব খারাপ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা মানুষেরা যদি মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলো রোধ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি নদীর ভাঙন জয়ের বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে সক্ষম হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে নদীভাঙন রোধ করার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া