পুলিশের বাধায় পণ্ড প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৯

বেতন বৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষক শহিদ মিনারে জড়ো হলেও পুলিশের বাধার মুখে পূর্বনির্ধারিত মহাসমাবেশ করতে পারেনি। পুলিশের লাঠিচার্জে ৩০ জন শিক্ষক আহত হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। পরে তারা দোয়েল চত্বরে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান নেন ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শিক্ষকরা তাদের দাবি পূরণে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দেন শিক্ষকরা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে গঠিত হওয়া ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে তাদের দাবি আদায়ে এই মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল। গতকাল ভোর হতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শিক্ষকরা আসতে শুরু করেন। সকাল থেকেই পুলিশ শহিদ মিনার ঘেরাও করে রাখে এবং শিক্ষকদের বাধা দেয়। অনেকে যারা বিভিন্ন জেলা থেকে বাস নিয়ে এসেছেন তাদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব সম্প্রতি নাকচ করে দেয়।

মহাসমাবেশে পুলিশের বাধা প্রসঙ্গে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সকালে সমাবেশের জন্য তারা শহিদ মিনারে ঢোকার চেষ্টা করলে ঐক্যপরিষদের সমন্বয়ক আতিকুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। কিছু শিক্ষক জোর করে শহিদ মিনারে ঢুকতে গেলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দোয়েল চত্বরে চলে যান তারা। দোয়েল চত্বরে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক জমায়েত হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠিচার্জ করে এবং এতে প্রায় ৩০ জন শিক্ষক আহত হন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। তাদের মধ্যে ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর পুলিশ শিক্ষকদের আধা ঘণ্টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করে সেখান থেকে চলে   যেতে বলেন।  ঐ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ঐক্যপরিষদের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক তোতা, নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সরকার, মহাসচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম। পরে সেখানে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই সমাবেশের আয়োজনের বিরুদ্ধে ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তারা সমাবেশ থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন সতর্কতামূলক নির্দেশনা ও জারি করেছিল। কিন্তু শিক্ষকতা অধিদপ্তরের ঐ নির্দেশনা আমলে নেননি।