ইসকন মন্দিরে ‘লোন ওল্ফ’ কায়দায় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১২

বাংলাদেশে ‘লোন উল্ফ’ কায়দায় ইসকনের যে কোনো মন্দিরে বড়ো হামলা চালাতে পারে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মদতপুষ্ট নব্য জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) মতো সংগঠন। গত কয়েক মাসের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আশঙ্কা করছে ভারতের প্রথম সারির একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গতকাল বুধবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

‘লোন উল্ফ’ অর্থাত্ সংগঠিতভাবে নয়, কোনো সংগঠনের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তিবিশেষ এই হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি লন্ডন, প্যারিস, নিউ ইয়র্কের মতো জায়গায় এ রকমই বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। হামলার পর আইএস দায়িত্ব স্বীকার করেছে; কিন্তু হামলাকারীর সঙ্গে তাদের সাংগঠনিক কোনো সরাসরি যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা             হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে আইএসের মতো সংগঠনের বিভিন্ন প্রচার শাখা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেসকে (ইসকন) ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ হিসেবে প্রচার শুরু করেছে। সম্প্র্রতি ‘উম্মাহ নিউজ’ নামে আইএসের একটি প্রচার চ্যানেলেও ইসকনকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ হিসেবে তুলে ধরে আক্রমণ করা হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, আইএস মনোভাবাপন্ন বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর যে সব নথি তারা পেয়েছেন, তা থেকে স্পষ্ট যে, ঐ সংগঠনের ওপর হামলার পরিকল্পনা হচ্ছে। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সামগ্রিকভাবে ইসকন এখন টার্গেট। ভারত এবং বাংলাদেশে উগ্রবাদীরা ক্রমাগত কোণঠাসা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরাক এবং সিরিয়াতেও একের পর এক ঘাঁটি হারিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে আইএসের। তিনি বলেন, নব্য জেএমবিকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইএস; কিন্তু ঢাকা হোলি আর্টিজানে অ্যাটাক ছাড়া বড়ো কোনো হামলায় সাফল্য পায়নি নব্য জেএমবি। উলটো গত দুই বছরে লাগাতার পুলিশি অভিযানে তাদের সংগঠন ক্রমাগত দুর্বল হয়েছে।

কেন্দ্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, জেএমবি বা নব্য জেএমবির মতো সংগঠন পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা টাকা সাহায্য পায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানোর জন্য; কিন্তু সেই তহবিলের জোগান নির্ভর করে সংগঠনের সাফল্যের ওপর। তাই এই মুহূর্তে বড়ো ধরনের একটি হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসতে মরিয়া বাংলাদেশের এই জঙ্গি গোষ্ঠী।

ইসকনের অন্যতম মুখপত্র রাধারমন দাস বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমরাও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। বাংলাদেশে তাদের ১৯টি মন্দির রয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নজরে এনেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার এবং ভারতীয় দূতাবাসকেও তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।