যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে মান বজায় থাকে না :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিয়ে এর নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার অপরাহ্নে গণভবনে নতুন করে এমপিও তালিকাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা উপলক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আপনারা নীতিমালা অনুযায়ী সব নির্দেশনা পূর্ণ করতে পেরেছেন বলে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। কাজেই এটা ধরে রাখতে হবে। কেউ যদি এটা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, সঙ্গে সঙ্গে তার এমপিওভুক্তি বাতিল হবে। কারণ এমপিওভুক্তি হয়ে গেছে—বেতন তো পাবই, ক্লাস করানোর দরকার কী, পড়ানোর দরকার কী, এ চিন্তা করলে কিন্তু চলবে না।’

যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শিক্ষার সঠিক মানটা আর বজায় থাকে না—মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচণ্ড একটা দাবি ছিল এমপিওভুক্তকরণের, আর এজন্য শিক্ষকরা আন্দোলনও করেছেন। তখন আমরা বলেছি—আমরা সবই করব; কিন্তু একটা নীতিমালার ভিত্তিতে করব। আমি আজকে নতুন করে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এপিওভুক্ত করলাম। একটি নীতিমালা করে নিয়ে যাচাই-বাছাই করে তারপর এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি এমপিওভুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ এবং এমপিওভুক্ত নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিনন্দন জানান।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমপিওভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে যারা এমপিওভুক্ত ছিল তাদের বেতনের টাকাটা সরাসরি ঐ প্রতিষ্ঠানে চলে যেত। যার ফলে দেখা গেল প্রায় ৬০ হাজার ভুয়া শিক্ষক ছিল, যাদের নামে টাকা যেত। তখন আমরা ঠিক করি যে, যার যার বেতন তার তার কাছে সরাসরি চলে যাবে এবং প্রতি মাসে একটা পেমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার বক্তৃতা উদ্ধৃত করে শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত সোনার ছেলেমেয়ে তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সেই সোনার ছেলেমেয়ে যেন তৈরি হয় সেই দায়িত্বটা শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়। কারণ শিক্ষকরাই তো মানুষ গড়ার কারিগর। কাজেই তারা সেটা করবেন। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার দেশের বাজেট বৃদ্ধি করে শিক্ষা খাতে সর্বাধিক ব্যয় বরাদ্দ করেছে, যাতে করে শিক্ষাকে আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত করে যুগের চাহিদা মোতাবেক প্রযুক্তি নির্ভর করে তোলা যায়। তিনি এ সময় সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দিয়ে এবং ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে ঘরে বসে উপার্জনের জন্য তার সরকারের ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং কর্মসূচি’ চালু, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণ ও যুগোপযোগীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।