আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছেন। ক্যাসিনো-দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অ্যাকশন চলছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের পর এবার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ থেকে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে অব্যাহতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকেও তার পদ থেকে সাংগঠনিক ক্ষমতা বলে নেত্রী (শেখ হাসিনা) অব্যাহতি দিয়েছেন। আমি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি তাকে জানিয়েছি।’ এর মাধ্যমে যুবলীগ চেয়ারম্যানের মতো একই পরিণতি হলো ক্যাসিনো কাণ্ডে নাম আসা মোল্লা কাওছারের। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ যে কয়জনের নামে রয়েছে, তার একজন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি মোল্লা মো. কাওছার। আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার পাশাপাশি মোল্লা কাওছারের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মের অনেক অভিযোগ।
আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সবাই অব্যাহতি পেলেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০ অক্টোবর যুবলীগ চেয়ারম্যান পদ থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি দেওয়া দয়েছে। অতীতে কখনো ক্ষমতাসীন দলের যুব, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনে এমন পরিবর্তন আনার নজির নেই। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।
জানা গেছে, মোল্লা মো. আবু কাওছার স্বেচ্ছাসেবক লীগের ‘দোর্দণ্ড প্রতাপশালী’ নেতা ছিলেন। তার একক কথায় সারাদেশে সংগঠনটি চলত। তবে সংগঠনের নামে শুধু নিজের আখের গুছিয়েছেন, দলের জন্য তিনি কিছুই করেননি। উলটো পদ বাণিজ্য করে সংগঠনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এদিকে মোল্লা মো. আবু কাওছারের পক্ষে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা উত্তোলন ও ভাগ-বাটোয়ারার দায়িত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগরীর দুই শীর্ষ নেতা। দখলবাণিজ্য, পুরান ঢাকায় চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, ইয়াবার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজিসহ নানা অনিয়মে গত ১০ বছরে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। মোল্লা কাওছার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে তেমন যাতায়াত করতেন না। ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ করতেন কাউন্সিলর মোমিনুল হক সাঈদ। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আরামবাগের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালু করেন মোমিনুল হক। তার আগে থেকেই এ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে আছেন মোল্লা মো. আবু কাওছার। গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ ক্লাবে র?্যাবের অভিযানের পর ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে মোল্লা মো. আবু কাওছারের সংশ্লিষ্টতার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে চলমান অভিযানে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গেও মোল্লা কাওছারের ঘনিষ্ঠতার খবর জানা গেছে একাধিক সূত্রে। একচেটিয়া গণপূর্ত বিভাগের কাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণে জি কে শামীমকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে মোল্লা কাওছারের বিরুদ্ধে।
আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। ক্যাসিনো কাণ্ডসহ নানা দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িত থাকায় মোল্লা মো. আবু কাওছারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি মোল্লা আবু কাওছার, তার স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নিলা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেডের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।
