উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাটুরিয়া সদর বাজারের পশ্চিম পাশে কাওন্নরা নামক স্থানে চন্দ্রখালী নদীর ওপর এলজিইডি নির্মিত ব্রিজ ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর পেরিয়ে গেছে ৩১টি বছর। কিন্তু ব্রিজটি আজো নির্মাণ করা হয়নি। এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। সেই বাঁশের সাঁকোও ভেঙে যাচ্ছে বারবার। জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে নদী পারাপারের কাজ সারা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও ইউপি নির্বাচন আসলে এ ব্রিজটি নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর কেউ মনে রাখেন না সে কথা।
‘৩১ বছর ধরেই বলা হচ্ছে ব্রিজ হবে, ব্রিজ হবে। কত সংসদ সদস্য, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান এলেন। তারা আসেন দেখেন চলে যান। অথচ ব্রিজটি আমাদের খুব দরকার।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বললেন মো. আতাউর হক নামে এক ব্যবসায়ী। সাটুরিয়া সদর বাজারের আবুল খায়ের স্টিলের ডিলার মো. আতাউর হকের কথাগুলো বাজারের ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ীর মনের কথা। এ একটি ব্রিজের জন্য আটকে আছে সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ীসহ উপজেলার পশ্চিম অংশের মানুষের স্বপ্ন। এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারো গ্রামবাসী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা বাঁশের তৈরি জোড়াতালি মার্কা এ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। যে কোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী ব্রিজটি নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ জাহিদ মালেক স্বপন এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহিরুল হক খান টিটু ও সাটুরিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ আলী চৌধুরী বলেন, প্রতিদিন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১৮ গ্রামের লোকজন এবং সাটুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির অবসান হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী এ কে এম তৈয়বুর রহমান জানান, সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঐ সড়কটি সংস্কারসহ একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যেই রাস্তাসহ ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।
