শহরের দেওভোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মাণাধীন শেখ রাসেল নগর পার্কের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় পার্কে কর্মরত ২৩ জন শ্রমিককে আটক করা হয়, তবে পরে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে রেলওয়ের উচ্ছেদকৃত জায়গা পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শেখ রাসেল নগর পার্ক পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ ও শ্রমিকদের আটকের নির্দেশ দেন। আটক দুজন হলেন : গাইবান্ধা রামপাল এলাকার বাসিন্দা আকলিম মিয়ার ছেলে মিঠু (২২), একই এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে মুকুল (৩২)। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (কমলাপুর স্টেশন) উপ-পরিদর্শক নাসিরউদ্দিন জানান, প্রথমে ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে বাকিদের ছেড়ে দিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে দুপুর দুটার দিকে জিমখানা এলাকায় রেলওয়ের জমি পরিদর্শনে আসেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় শেখ রাসেল নগর পার্ক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন উত্তরে রেলমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। যদি রেলওয়ের জায়গা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় তাহলে যে সকল নিয়ম-নীতি রয়েছে সে সব কার্যক্রম মেনেই নিতে হবে। গায়ের জোরে কোনো কিছু হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক সামসুজ্জামান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) শহীদুল ইসলাম, বিভাগীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান, বিভাগীয় ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। এর আগে রেলমন্ত্রী নগরীর চাষাড়ায় রেল স্টেশনসংলগ্ন ডাবল রেললাইন প্রকল্পের চাইনিজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় কাজের ধীরগতির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো সম্পন্ন করতে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। পরে মন্ত্রী শহরের কালিরবাজার এক নম্বর রেল স্টেশন পরিদর্শন করে এটি আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনার কথাও সাংবাদিকদের জানান।
রেলমন্ত্রী আরো বলেন, রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে রাখার অধিকার কারো নেই। রেল কর্তৃপক্ষ তাদের সংস্কার এবং উন্নয়ন কাজের জন্য সকল জমি অবৈধ দখলমুক্ত করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসবে। রেলের উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত জায়গা টেন্ডার আহ্বান করা হবে। যদি কারো জমি প্রয়োজন হয় তারা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে। তবে স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আর্থিকভাবে লাভবান হবে, সেটা করতে দেওয়া হবে না। মন্ত্রী জানান, সরকারি কোনো সংস্থারও যদি রেলের জমি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধভাবে তা নিতে হবে। জবরদখল করে রেলের জায়গা কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে দখল করে রাখা সকল স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিকায়ন করতে নানা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত ডাবল রেললাইন, পদ্মা লিংক এবং হাইস্পিড ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও রেলমন্ত্রী জানান।
