সুখ কী, কেমনে তারে ধরা যায়, কী তার সূত্র-ব্যাকরণ?
তা কী?—
যেনতেন প্রকারেণ হয়ে ওঠায় এক কেউকেটা জবর?
অর্থে-বিত্তে, পদ-পদবিতে, প্রভাবে, শক্তিমত্তায় থাকা আচ্ছন্ন?
নিজের চাওয়াটা কব্জা করে নিয়ে হয়ে উঠতে দাপুটে, প্রবল
চাটুকারিতায় মুগ্ধ করা তাদেরকে—যারা রয়েছে ক্ষমতাধর?
আত্মগরিমায় মগ্ন থেকে অন্যদেরকে করা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য?
অকারণে অন্যদের দোষ খোঁজা, করতে তাদের অপদস্থ?
ধান্দাবাজ হয়েও নিজেকে সাচ্চা বলে জাহির করার লক্ষ্যে
অহরহ থাকা ব্যস্ত হম্বিতম্বি, কপটতা আর বাগাড়ম্বরে?
উপর্যুক্ত বিভিন্ন প্রবণতা ব্যাপক লক্ষণীয় দেশ-দেশান্তরে
সুখ কি তবে তারা পায়, নিজের স্থূল গরিমায় বিভোর থেকে?
হয়তো গর্ব-দম্ভ দৃশ্যমান, সুখপাখির থাকে না কোনো নিদর্শন
হয়তোবা অবশেষে আসল সত্য উন্মোচিত হয় ভিন্ন কোনোরূপে;
গুঢ় অর্থ বুঝতে, ব্যাখ্যা খুঁজতে হবে সুখের সূত্র-ব্যাকরণে।
যদি চাই আরো আরো, সব সময় থাকতে হয় সতর্ক তটস্থ
কেমন করে ধরে রাখব এবং বাড়াব নিজ বিত্ত-বৈভব যত।
ধান্দাবাজিতে জড়িয়ে থাকলে, ধান্দায় ঘুরপাক অনবরত
হতে পারে ‘মারিব, না হয় মরিব’ সেই চক্করে ব্যস্ত অবিরত।
ইঁদুরদৌড় আর অশান্তিতে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ
অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনা কুরে কুরে খাবে অস্থি-মজ্জা-মগজ;
এই বাস্তবতায় চিত্তের প্রসার ঘটার থাকে না কোনো সুযোগ।
সুখের মূলসূত্র তাই খুঁজতে হবে চিরায়ত মানবিক সব গুণে
ব্যাকরণের বিন্যাস ঘটতে পারে ধান্দাবিহীন সুস্থ পথ অনুসরণে।
এই পথ ধরে এগিয়ে চলে জীবন আর মননের বিকাশ ঘটালে
সুখের সুবাস জীবনকে করবে উদ্দীপ্ত প্রাণিত, মনকে দিবে রাঙিয়ে।
