চিলির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা করেনি জনতা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২১

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা ক্ষমা চাওয়ার পরও বিক্ষোভকারীদের সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমেছে দেশটির হাজার হাজার নাগরিক। সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ছয় দিনে ১৮ জন নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের উপর চাপ জোরদারে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। খবর এএফপি’র।

আন্দোলনকারীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেছে এবং সরকারি কর্মচারীরাও কাজে যোগ দেয় নি। রাজধানী সান্তিয়াগোসহ বেশ কয়েকটি শহরে সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিয়ে মিছিল করেছে। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে টিয়ার সেল, রাবার বুলেট ও জল কামান ব্যবহার করেছে। 

এদিকে ওয়ার্কার্স ইউনাইটেড সেন্টার অব চিলি জানিয়েছে, ‘ধর্মঘট চলছে! আমরা উচ্চ কণ্ঠে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে নিহতের সংখ্যা ও দমন পীড়ন অনেক হয়েছে। এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।’ 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পূর্বানুমান করতে না পারার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পিনেরা বলেন, ‘আমি মেনে নিচ্ছি যে এক্ষেত্রে আমার দূরদর্শিতার ঘাটতি ছিল।’

আরও পড়ুন: জামিন নামঞ্জুর কারাগারে সম্রাট

ভাষণে পিনেরা অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকার চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য, ওষুধের দাম কমানো এবং বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল করতে পদক্ষেপ নেবে। 
প্রেসিডেন্টর এমন আশ্বাসের পরও তা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে রাস্তায় নেমে এসেছে।

ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সবচেয়ে ধনী দেশ চিলিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এতো ব্যাপক সহিংসতা হতে দেখা যায়নি। মেট্রো রেলের টিকিটের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার নাটকীয়ভাবে এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দৈনন্দিন জীবন যাত্রার খরচ বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ এখনও চলছে। মানবাধিকার বিষয়ক জাতীয় সংস্থা জানিয়েছে, চিলির সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন নিহত ও ২৬৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় এক হাজার ৯শ’ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 
সূত্র: বাসস।

ইত্তেফাক/এসইউ