গত মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সভায় সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে এসিসির সভাপতি হন তিনি। বিসিবি সভাপতির সভাপতিত্বে গতকাল প্রথম সভা করলো এসিসি। ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিত ডেভলপমেন্ট কমিটির পর এসিসির বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কাযনির্বাহী কমিটির সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
এসিসির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২০২০ সালে এশিয়া কাপের আয়োজক স্বত্ব পাচ্ছে পাকিস্তান। একই বছর অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ। যার প্রস্তুতি হবে এশিয়া কাপও হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সেপ্টেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া কাপের আসর।
তবে টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানেই হবে নাকি বাইরে কোথাও তা ঠিক হয়নি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন না হলে নিশ্চিতভাবেই পাকিস্তানে খেলতে যাবে না ভারত। নিরাপত্তার ঝুঁকি জনিত কারণে পাকিস্তান সফরে রাজি নয় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ। তাই পাকিস্তানে এশিয়া কাপ আয়োজনের সম্ভাবনা খুবই কম। একই পরিস্থিতির কারণে চলমান এসিসি ইমার্জিং এশিয়া কাপ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করেছে। পাকিস্তানে শুধু একটি গ্রুপের খেলা হয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি এহসানি মানি গতকাল এসিসির সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, এশিয়া কাপ পাকিস্তানেই আয়োজন করা হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে পিসিবি। বর্ষীয়ান এই সংগঠক আশাবাদী, উপমহাদেশের বিশ্বকাপ খ্যাত এই টুর্নামেন্ট পাকিস্তানে আয়োজন করতে পারবেন।
এফটিপি অনুযায়ী ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল পাকিস্তান দলের। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরও বিসিবি পাকিস্তান সফরে দল পাঠায়নি, যার অজুহাতে পিসিবি বাংলাদেশে দল পাঠায়নি গত বছর। তবে এহসান মানি গতকাল বলেছেন, দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার পরিকল্পনা করছে পিসিবি। এফটিপির বাইরে একটা সময় নির্ধারণ করে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল।
এসিসির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন গতকাল বলেছেন, সভায় সংস্থার গেম ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এহসান মানিকে। ফিন্যান্স ও মার্কেটিং কমিটির দায়িত্ব পেয়েছে বিসিসিআই। আইসিসির সঙ্গে নতুন করে চুক্তিপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসিসির অফিস আগামী এক মাসের মধ্যে কলম্বো থেকে দুবাইয়ে স্থানান্তর করা হবে। এবং সেখানেই স্থায়ী অফিস করার চিন্তাভাবনা চলছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, নারী ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত শুধু এশিয়া কাপই আয়োজন করে এসিসি। এবার এর বাইরে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গতকাল সভায় নতুন টুর্নামেন্টের রূপরেখা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডেভেলপমেন্ট কমিটিকে।
