ঘটনাবহুল ম্যাচ জিতে টিকে রইল বসুন্ধরা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৫

দুই দেশের লিগ চ্যাম্পিয়নদের দ্বৈরথ। কোথায় খেলাটা হওয়ার কথা ধ্রুপদী ফুটবলের উদাহরণ, তার পরিবর্তে এটি বনে গেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ঘটনাবহুল ম্যাচ। তবে তা নেতিবাচক অর্থেই। বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজন আর চেন্নাই সিটি কোচ মোহাম্মদ আকবরসহ দুই দলের চার জন প্রথমার্ধেই নানা ঘটনার সুবাদে লাল কার্ড দেখেন। এরই মাঝে গতকাল শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী বসুন্ধরা।

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে তখন খেলাটা ২৫তম মিনিটে। ষষ্ঠ মিনিটে বসুন্ধরার মোহামাদ জালালের গোলে পিছিয়ে পড়া চেন্নাই সিটি প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিক পায়। তখনই রেফারি লাকমাল উইরাক্কোডির কথিত বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে মেজাজ হারিয়ে মাঠ ছেড়ে আসেন চেন্নাই সিটির জাপানি মিডফিল্ডার কাতসুমি য়ুসা।

রেফারি আবারও তাকে মাঠে ডাকলে একপর্যায়ে রেফারিকে মারতে তেড়ে যান তিনি। এর আগে চতুর্থ অফিশিয়ালের টেবিলেও রাগের বশে লাথি মেরে বসেন তিনি। এমন ঘটনার ফলে ম্যাচের প্রথম লাল কার্ডটি হজম করেন কাতসুমি। এমন ঘটনায় ১৩ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

চেন্নাই এরপর ৩৯তম মিনিটে সমতা ফেরায়। গোলটি আসে পেদ্রো হাভিয়ের ক্রুজের পা থেকে। যোগ করা সময়ে দুই দলের কোচ অস্কার ব্রুজন ও মোহাম্মদ আকবর বাগিবতণ্ডার জেরে লাল কার্ড দেখেন।

সমতায় থেকে বিরতিতে যাওয়া বসুন্ধরা আবারও এগিয়ে যায় ৫৯ মিনিটে। ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বখতিয়ার দুশোবেকভ। মিনিট দশেক পর আরেকটা লাল কার্ড। এবার মাঠ ছাড়েন চেন্নাই ডিফেন্ডার রবার্তো এসালভা সুয়ারেজ। এর দুই মিনিট পরেই দলটি আবারও সমতায় ফেরেমাশহুর শেরিফের কল্যাণে।

টানটান উত্তেজনার ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙল ৮৯ মিনিটে। রবিউল হাসানের শট রুখলেও ফিরতি শটে জালালের প্রয়াস ঠিকই খুঁজে নেয় চেন্নাইয়ের জাল। ফলে নয় জনের দলের বিপক্ষেও ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত এক জয় পায় লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চেন্নাইয়ের সহকারী কোচ সত্য রেফারির বর্ণবাদী মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি দুটো লাল কার্ড রেফারির জন্যই দেখেছি। বসুন্ধরা ভালো দল, তাদের বিপক্ষে খেলতে ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলাম। কিন্তু রেফারির দেখানো দুটো কার্ড আমাদের সব পরিকল্পনা ভজঘট পাকিয়ে দিয়েছিল।’

স্বাগতিক বসুন্ধরা সহকারী কোচের তীরও ধেয়ে গেলো শ্রীলঙ্কান রেফারির দিকেই। মাহবুব আলম রক্সি জানালেন বাজে সিদ্ধান্তের জেরেই মেজাজ হারিয়েছিলেন অস্কার। তিনি বলেন, ‘রেফারি কেন আছে? পেছন থেকে বাজে ফাউল হচ্ছে কি না তা দেখার জন্যই তো? প্রথম লাল কার্ড দেখার পরে ওরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করে আমাদের কলিন্দ্রেস, বখতিয়ারদের মারার কৌশল নিয়েছিল। সেটা দেখার পরেই অস্কার মেজাজ হারিয়ে ওদের টেকনিক্যাল জোনে ঢুকে পড়েছিলেন।’ এই জয় বসুন্ধরার সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল। শেষ ম্যাচে তেরেঙ্গানুকে হারাতে পারলে আর বাকি সব ফলাফল নিজেদের পক্ষে এলে তবেই শেষ চারের টিকিট পাবে দলটি।