অসাধারণ একটা বছর কাটছে ওয়ানডে ক্রিকেটে।
চলতি ২০১৮ সালে আজকের আগে বাংলাদেশ ১৯টি ম্যাচ খেলেছে; জয় এসেছে ১২টি ম্যাচেই। সাফল্যের হারে এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ সফলতম বছর। এই অসাধারণ বছরটির শেষ যদি হয় একটি জয় দিয়ে, তার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!
বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সেটাই চাচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের জন্যই আজকের ম্যাচটা জেতা জরুরি। সিলেটের নবীন ভেন্যুতে প্রথম হাসি আনার জন্যও জরুরি আজকের জয়টা। কিন্তু বছরটাকে সাফল্যে রাঙিয়ে রাখার জন্য এই জয়টা সবচেয়ে জরুরি।
এই সফল বছরটা নিয়ে বলতে গিয়ে মাশরাফির কণ্ঠে অবশ্য একটু আফসোস ধরা দিলো। এ বছর বাংলাদেশ দুটো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু সেই ট্রফি অধরা থেকে গেছে এই বছরেও। তাই সাফল্যের পাশাপাশি সেই আক্ষেপের কথাও বলছিলেন মাশরাফি, ‘জয় দিয়ে বছর শেষ করতে পারলে ভালো হবে। প্রথম ম্যাচের পর বলেছিলাম যে, এ বছরের জয়ের পার্সেন্টেজ বেশ ভালো। জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে খুব ভালো হবে। পাশাপাশি খুব বড় একটা টুর্নামেন্ট জেতার সুযোগ ছিল। বছরের শুরুতেও একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ হেরেছি। এছাড়া সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় ওয়ানডে ফরম্যাট বেশ ভালো গিয়েছে। শেষটাও উইনিং সাইডে থাকতে পারলে ভালো হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ জিততে পারলে সেটার আরেকটা তাত্পর্য দেখছেন মাশরাফি। এই জয়টা যে সিরিজ জয় এনে দেবে, সেখান থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাদের সঙ্গ দেবে বলে অধিনায়কের বিশ্বাস। তিনি বলছিলেন, ‘অবশ্যই এ ম্যাচটা জিততে পারলে পরবর্তী সিরিজের আত্মবিশ্বাস ভালো থাকবে। টি-টোয়েন্টি হবে যে সিরিজটি, সেটাতে অনেক সাহায্য করবে। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড ট্যুর আছে। যদিও ফরম্যাট আলাদা থাকবে। স্পোর্টসে যেটা হয় আসলে, আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় আপনি উইনিং বা লুসিং সাইড সেটার ওপর। তাই আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের জন্য বড় শর্ত হলো, তাদের পেস বোলিং ঠিক মতো খেলা। ক্যারিবিয় অধিনায়ক পরিষ্কার বলে দিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পেস বোলিংয়ে দুর্বল। জবাব দিতে গিয়ে মাশরাফি বললেন, সেই দিন আর নেই, ‘ওদের পেস বোলিংকে কিন্তু আমরা দুইটা ম্যাচেই সামাল দিয়েছি। এটা ঠিক শুরুতে একটা-দুইটা উইকেট পড়েছে। শেষ ম্যাচেও যদি দেখেন, মুশফিক ও তামিমকে কিন্তু ওরা পেস বোলিং দিয়ে খুব একটা ভোগাতে পারেনি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফল বোলার ওশানে থমাসকেও যে তারা ঠিকঠাক মতো খেলেছেন, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মাশরাফি, ‘দুই দিনই ও ছয় ইকোনমিতে বোলিং করেছে। রান নিয়ে কিন্তু কোনো ইস্যু নাই। ওরা যদি ও-ই ওদের সেরা বোলার, আমরা ছয় করে নিয়ে তো খুব স্বস্তিতে আছি। ১৪৭ গতিতে বল করেছে তার ওভার থেকেই কিন্তু সাকিব ১৬ রান নিয়েছে।’
আগের দিন জয়-পরাজয় যাই আসুক, মাশরাফি এই ম্যাচেও দলের আগের ফরমেশনের ওপর ভরসা রাখতে চান। বললেন, তিন পেসার নিয়ে খেলার পদ্ধতি বদলাবেন না তারা, ‘আমার কাছে মনে হয় না ম্যাচ হারার সঙ্গে এটার সম্পর্ক আছে। বরং জেতার জন্য, আপনি যদি প্রথম ম্যাচ দেখেন পেস বোলারদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল। অবশ্যই স্পিন আমাদের শুরুতে অনেক কিছু সেট করে দিয়েছে। পেস বোলিংয়ে এমন কোনো বাজে অবস্থা হয়নি যে সেকারণে হেরেছি। বরং জিতেছি পেস বোলিংয়ের কারণে।’
