দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ৯ শতাংশ সুদহারে ঋণ পুনঃতফশিলের (রিশিডিউলিং) সুবিধার সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিমালায় ঋণ পুনঃতফশিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধার জন্য আর আবেদন নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। গত ২০ অক্টোবর পর্যন্ত যেসব আবেদন এসেছে সেগুলোর নিষ্পত্তিতে সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৯ নভেম্বর কিংবা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে চলমান রিট পিটিশন নিষ্পত্তির মধ্যে যেটি আগে হবে তার মধ্যেই ব্যাংকগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উচ্চ আদালতের আদেশের আলোকে বুধবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে গত ১৬ মে ঋণ পুনঃতফশিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দমানে খেলাপি ঋণ মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন জমার বিপরীতে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফশিলের সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ, যা গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরতে হবে। আবার ব্যাংক চাইলে পুনঃতফশিলের আগে গ্রাহককে সুদ মওকুফ সুবিধা দিতে পারবে। সার্কুলার জারির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এ সুবিধার জন্য গ্রাহককে আবেদন করতে বলা হয়। সে হিসেবে সার্কুলার জারির ৯০ দিন পূর্ণ হয় গত ১৩ আগস্ট।
তবে উচ্চ আদালত থেকে দুই দফা স্থগিতাদেশের কারণে এ সার্কুলারের আলোকে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়িয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে গত ২৯ আগস্টের অপর এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় দফায় আবেদন নেওয়ার সময় আরো বাড়িয়ে ২০ অক্টোবর করা হয়। ২০ অক্টোবর উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আপিল শুনানি হয়। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এই সার্কুলারের কার্যকারিতা আরো এক মাস অথবা রিটপিটিশন নিষ্পত্তির তারিখের মধ্যে যেটি আগে আসবে সেই পর্যন্ত বৃদ্ধির আদেশ দেন। তবে সেখানে আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সার্কুলার জারি করেছে।
