পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেন সিরাজ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৬

নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই নির্দেশ দেন বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। পাশাপাশি এই নির্দেশ অনুযায়ী আসামিরা নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সর্বাত্মক সহযোগিতায় অংশ নেয়। পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নির্বিঘ্ন করতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও সাইক্লোন সেল্টারের গেটে পাহারা দেয় কয়েক আসামি। যা এই রায়ে তুলে ধরেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামনুর রশিদ। রায়ে অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে ১৬ আসামির পৃথক পৃথক দায় তুলে ধরে তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

বিচারক বলেছেন, এভাবে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। আসামিদের এই ঔদ্ধত্য কালান্তরে মানবতাকে লজ্জিত করবে নিশ্চয়ই। তাই দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতম শাস্তিই তাদের প্রাপ্য। রায়ে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ সিরাজ ভিকটিম রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেয়। আর আসামি নুর উদ্দিন হত্যার পরিকল্পনা করা, উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং পরিকল্পনামাফিক ভিকটিমের গায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নির্বিঘ্ন করার জন্য মাদ্রাসার গেটের বাইরে পাহারারত ছিল। আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম হত্যার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়া ছাড়াও কেরোসিন সংগ্রহ, ভিকটিমকে হাত-পা বেঁধে ছাদে ফেলে দিয়ে তার মুখ ও মাথা চেপে ধরে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

রায়ে বলা হয়, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম হত্যার পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়া ও সহযোগিতা করা এবং পরিকল্পনামাফিক ভিকটিমের গায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানোর জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা জ্ঞাত থেকে উক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ নেওয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং পরিকল্পনামাফিক ভিকটিমের গায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর আসামিবৃন্দকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

রায়ে বলা হয়, নুসরাতের সহপাঠী কামরুন নাহার মনি বোরকা ও হাতমোজা সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে নুসরাতকে সাইক্লোন সেল্টারের ফ্লোরে ফেলে শুইয়ে দিয়ে ভিকটিমের বুক চেপে ধরে অগ্নিকাণ্ড নির্বিঘ্ন করে। উম্মে সুলতানা পপি অগ্নিসংযোগ সংঘটন করার জন্য ভিকটিমকে পরিকল্পনা মোতাবেক সাইক্লোন সেল্টারের ছাদে ডেকে নেওয়া, ভিকটিমের ওড়না খুলে নিয়ে উহার অর্ধাংশ দিয়ে ভিকটিমের হাত বেঁধে ভিকটিমকে ফ্লোরে ফেলে শুইয়ে দিয়ে ভিকটিমের পা ধরে রেখে অগ্নিকাণ্ড নির্বিঘ্ন করে।

এছাড়া আসামি সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের হত্যার পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ ছাড়াও অগ্নিসংযোগের লক্ষ্যে নুসরাতের ওড়নাকে লম্বালম্বি ছিঁড়ে দুই ভাগ করে এক ভাগ দিয়ে নুসরাতের পা পেঁছিয়ে অতঃপর ম্যাচের কাঠি দিয়ে কেরোসিন মিশিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ পরিকল্পনামাফিক ভিকটিমের গায়ে অগ্নিসংযোগের পূর্বাহ্নে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়। হাফেজ আবদুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখারউদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন ও আবছারউদ্দিন ভিকটিমের গায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নির্বিঘ্ন করার জন্য মাদ্রাসার গেটের বাইরে পাহারারত ছিল। মো. শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল মাদ্রাসার ভিতরে সাইক্লোন সেল্টারের নিচে পাহারারত ছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।