দেশের মেগা বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর মধ্যে সবার আগে নির্মাণ কাজ গুছিয়ে এনেছে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র। কিন্তু উত্পাদনের পর বিদ্যুত্ বিতরণ পর্যায়ে নিতে যে সঞ্চালন লাইনের প্রয়োজন তার নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি সরকারি কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। ফলে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ হলেও নির্ধারিত সময়ে উত্পাদন শুরু করতে পারছে না। তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের সিএমসির (চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন) উদ্যোগে এবং সমান অংশীদারিত্বে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং কেন্দ্রটি পরিচালনায় দুই প্রতিষ্ঠানের সমমালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই ইউনিটের কেন্দ্রটির প্রথমটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে এবং ২০২০ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয়টি বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করবে। এ জন্য বিদেশ থেকে সমুদ্রপথে কয়লা আমদানির প্রথম চালান গত মাসে এসে পৌঁছেছে। ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক উত্পাদন ইতিমধ্যে শুরুও হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে বাণিজ্যিক উত্পাদন চালুর কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইন শেষ না হওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে এ কেন্দ্রের বিদ্যুত্ পেতে জাতীয় গ্রিড এবং গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হতে পারে।
পায়রা তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলা বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরুর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী ছিলাম। তবে যেহেতু সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ করা যায়নি সেহেতু কিছু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে।
বিদ্যুত্ বিভাগ এবং নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ও দ্বিতীয় ইউনিটে টারবাইন জেনারেটর বসানো হয়েছে। প্রথম ইউনিটে উত্পাদিত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ যুক্ত হবে গোপালগঞ্জে নির্মাণাধীন সাবস্টেশনে। সেখান থেকে সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। কিন্তু সঞ্চালন লাইন টানা এবং গোপালগঞ্জে সাবস্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি পিজিসিবি।
পিজিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পায়রা থেকে বিদ্যুত্ সঞ্চালনের লাইনটি দীর্ঘ এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। বড়ো প্রকল্পের লাইন সম্পন্ন করার কাজ এটিই প্রথম। যে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেছিলেন তা করা যায়নি। তবে যত দ্রুত সম্ভব লাইনটি প্রস্তুত করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলেই কাজ করছে।
