টরন্টোতে বিজয় দিবস উদযাপন

টরন্টোতে বিজয় দিবস উদযাপন
ছবি- সংগৃহীত

কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনের মাধ্যমে ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করে। টরন্টো ভিত্তিক বাংলাদেশী সংস্কৃতি গোষ্ঠী ‘উদিচি শিল্পী গোষ্ঠী’, ‘নৃত্যকলা’, ‘বাচনিক’, ‘সুকন্যা’ এবং ‘নৃত্যাঙ্গন’ দেশাত্মবোধক গান, নাচ এবং কবিতার পরিবেশনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার গৌরবময় যাত্রাকেচিত্রায়িত করে। অন্টারিও প্রদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ, টরন্টো ভিত্তিক কূটনীতিকবৃন্দ, টরন্টো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশী ডায়সপোরা কমিউনিটি, কনস্যুলেটের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এ উদযাপনে অংশ নেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই উদযাপন শুরু হয়। কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তারা মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিজয় দিবসের বার্তা পাঠ করেন। কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। টরন্টোতে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, টরন্টো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, টরন্টোতে বসবাসরত বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পরে, "আমরা কীভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি" শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।

কনসাল জেনারেল নাঈম আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন এবং তিনি স্বাধীনতার অদম্য যাত্রায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অমূল্য অবদান এবং ৩০ লাখ শহীদের ত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এই দিবসটি উপলক্ষে, কনসাল জেনারেল সমস্ত বাংলাদেশী নাগরিককে "সোনার বাংলা" প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতার স্বপ্নের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যা তার যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পূরণ হতে চলেছে।

নাঈম আহমেদ আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে 'উন্নয়ন মিরাকল' এবং উন্নয়নের 'রোল মডেল' হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরনের পথে রয়েছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। তিনি কানাডায় বাংলাদেশী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে অব্যাহত প্রচেষ্টার জন্য টরন্টো এবং অন্যান্য প্রদেশের বাংলাদেশী প্রবাসীদেরও ধন্যবাদ জানান।

এর আগে ১৬ ডিসেম্বর সকালে কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনের সূচনা করেন। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বার্তাসমূহ পাঠ করা হয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। কনসাল জেনারেল নাঈম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হয়।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত