চিহ্নিত করুন ভুয়া ওয়েবসাইট

মাহবুব শরীফ

 

যখন কোনো ফেক ওয়েবসাইটকে এতটা বুদ্ধি খাটিয়ে বানানো হয় যেটা সবদিকে আসল ওয়েবসাইটের মতো দাবি করে তখন সেটাকে ওয়েবসাইট স্পুফিং বলা হয়। এটাকে আরেক ভাষায় ফিশিং ওয়েবসাইটও বলতে পারেন। এটা এক ধরনের অনলাইন স্ক্যাম, আসল ওয়েবসাইটের মতো হুবহু ওয়েবসাইট বানিয়ে আপনার থেকে পাসওয়ার্ড, আপনার পার্সোনাল ইনফরমেশন, অ্যাকাউন্ট লগইন ডিটেইলস, ক্রেডিট কার্ড নাম্বার ইত্যাদি চুরি করার ধান্দা করা হয় অথবা আপনার কম্পিউটারকে ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত করানো ও এর উদ্দেশ্য হতে পারে।

পাঠকদের সুবিধার্থে ফেক ওয়েবসাইট বা স্পুফিং করা ওয়েবসাইট কীভাবে চেনা যেতে পারে এবং ওয়েবসাইট স্পুফিং থেকে কীভাবে বাঁচবেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি।

ওয়েবসাইট স্পুফিং

আপনি যে ওয়েবসাইটগুলোকে বিশ্বাস করেন, এমনকি প্রত্যেকটা দিন ইউজ করেন, স্ক্যামাররা সেই ওয়েবসাইটকেই হুবহু নকলভাবে ডিজাইন করে এবং আপনাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে ঐটাই আসল ওয়েবসাইট। তারপরে আপনি আসল ওয়েবসাইট মনে করে নকল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পাসওয়ার্ড, ক্রেডিটকার্ড, যে কোনো তথ্য সাবমিট করে চলে আসেন।

সাইবার কোম্পানি ম্যালওয়্যার বাইটসের মতে, স্ক্যামাররা সাধারণত আসল ওয়েবসাইটের ব্র্যান্ডিং নকল করে, ইউজার ইন্টারফেস নকল করে এমনকি ডোমেইন নেম ও নকল করে। তারপরে আপনাকে ইমেইল স্পুফ করে মেইল সেন্ড করে, যাতে আপনার কাছে মনে হয় ইমেইল আসল ওয়েবসাইট থেকেই এসেছে। আর ইমেইলের মধ্যে থাকে ফেক লিংক, যেটা ক্লিক করলে ফেক ওয়েবসাইট ওপেন হয় কিন্তু সেটা দেখতে হুবহু আসল সাইটের মতো, তাই আপনি বুঝতেও পারেন না ব্যাপারটা কি। ইমেইলটা এমনভাবে লেখা হয় যাতে আপনি লিংক ক্লিক করতে বাধ্য হয়ে যান, তারপরে বাকিটা তো বুঝতেই পারছেন। ওয়েবসাইট স্পুফিং-এর সঙ্গে লিংক স্পুফিং এবং ইমেইল স্পুফিং-এর বিশাল সম্পর্ক রয়েছে। স্ক্যামারের সেন্ড করা লিংক এক নজরে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এটা আসল লিংক নয়। ধরুন আপনার ব্যাংকের ওয়েবসাইটের আসল লিংক হচ্ছে; mybank.com সেক্ষেত্রে স্ক্যামাররা my-bank.com লিংক সেন্ড করতে পারে, যেটা নকল ওয়েবসাইটে নিয়ে যাবে। নিচে কিছু ম্যাথডের লিস্ট দেওয়া হল, যেভাবে স্ক্যামাররা লিংক ফেক করে থাকে। স্ক্যামারদের ডোমেইন আসল ডোমেইন থেকে হালকা একটু বানান ভুল হয় যেটা দেখতে একই রকমের লাগে। যেমন আসল ডোমেইন নেম হচ্ছে google.com সেখানে স্ক্যামাররা gooogle.com লাগিয়ে দিতে পারে, মানে হুবহু হয়তো এমন করে না, বাট আশা করছি আপনি আইডিয়া পেয়ে গেছেন। তাছাড়া এরা লিংক শর্ট করে ফেক ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, bit.ly এর মতো অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে যেকোনো লিংক শর্ট করা যায়, আপনি আগে থেকে বুঝতে পারবেন না কোথায় সেই লিংক আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।

হাইপারলিঙ্কড ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায়ই নকল লিংক লুকিয়ে রাখা হয়। কনফিউজড করার জন্য হাইপারলিঙ্কড ওয়ার্ড ইউজ করা হয়েছে আর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে আরেক লিংক। আপনি কোন লিংকে ক্লিক না করেই সেখানে জাস্ট মাউস নিয়ে গিয়ে লিংকের ওপরে ধরুন, ব্রাউজারের নিচের দিকে আসল লিংক শো করবে!

বেশির ভাগ সময় ইংরেজি অক্ষরের ডোমেইন নেম দেখা গেলেও অনেক নন-ল্যাটিন ভাষার অক্ষরেও ডোমেইন নেম অ্যালাউ করে ICANN @ আলাদা ভাষার অনেক অক্ষর দেখতে ইংরেজি অক্ষরের মতোই কিন্তু সেগুলো ইংরেজি অক্ষর নয়। আচ্ছা, আপনি নিজেই দেখুন; Google.com @ এটা কপি করে ব্রাউজারে এন্টারহিট করে দেখুন তো, আপনি কোন সাইটে যেতে পারেন। এখানে গুগল দেখা গেলেও, এই ? কিন্তু সেই এ নয়, এটা একটা ইউনিকোড ক্যারেকটার, বাট দেখতে একই রকমের, আপনি সহজেই ধোঁকা খেয়ে যাবেন।

ওয়েবসাইট স্পুফিং অ্যাটাক থেকে  যেভাবে বাঁচবেন

আপনাকে প্রথমত স্পুফিং করা লিংক চিনতে শিখতে হবে। যেকোনো লিংক দেখলেই ক্লিক করা যাবে না, প্রথমত হাইপারলিঙ্কড টেক্সটের ওপরে মাউস নিয়ে গেলেই আসল লুকিয়ে থাকা লিংকটি দেখতে পাওয়া যাবে। ইমেইলে কোনো লিংক যুক্ত করে দিয়েছে বলে সেখানে ক্লিক করতে হবে এমন নয়। আপনার ব্যাংক বা চেনা ওয়েবসাইট প্রয়োজনে সার্চ ইঞ্জিনে লিখুন তারপরে সেই সাইটে ভিজিট করুন। কোন লিংকের ওপরে HTTPS রয়েছে কি না সেটা চেক করে নিন!

নিজের কমন সেন্স ইউজ করুন, কোনো মেইলে বিশাল অফার চলে এলো আর আপনি সেই অফারে ক্লিক করে দৌড়ে অফার নিতে চলে গেলেন, এমনটা করলে হবে না। খটকা লাগলে গুগল করে দেখুন তারা সত্যিই সেই অফার দিচ্ছে কিনা। অথবা আসল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের মেইল বা চ্যাট সাপোর্ট বা ফোনে কথা বলুন, তারপরে নিশ্চিত হন।

ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস প্রটেকশন ইউজ করুন, অনেক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার লিংক স্পুফিং ধরে ফেলতে পারে, তারা ফেক ওয়েবসাইট দেখলেই আপনাকে ওয়্যারনিং দিয়ে দেবে। তবে সব সময় নিজের চোখ-কান খোলা রাখাই হচ্ছে এগুলো থেকে বাঁচার আসল উপায়!