রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় মো. হাসিবুর রহমান নামে ভর্তিচ্ছু ‘সি’ (বিজ্ঞান) ইউনিটে অ-বিজ্ঞান শাখায় মানবিক থেকে প্রথম হলেও ‘এ’ ইউনিটে অকৃতকার্য হন তিনি। এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকা হলেও সাড়া দিচ্ছেন না তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসিবুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তার বাবা রহনপুর মহিলা কলেজের শিক্ষক। এ বছর তিনি রাজশাহী নিউ গভঃমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসিবের একাধিক বন্ধু জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এমনি সিলেট হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বাসের টিকেটও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু রাজশাহীতে পরীক্ষা দেওয়ার পর আর কোথাও পরীক্ষা দিতে যায়নি হাসিব।
আরও পড়ুন: ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় শিক্ষক গ্রেফতার
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসিব চলতি বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ও ‘সি’ ইউনিটে অংশ নেন। গত ৬ ও ৭ নভেম্বর যথাক্রমে ‘সি’ ও ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ হলে ‘সি’ ইউনিটে প্রথম ও ‘এ’ ইউনিটে বহু নির্বাচনিতে মাত্র ২০ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য হন হাসিব। পরীক্ষার শর্তানুযায়ী বহুনির্বাচনিতে অকৃতকার্য হলে লিখিত খাতা মূল্যায়নের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। ‘সি’ ইউনিটে তার রোল নম্বর-৮০৩১৮ ও ‘এ’ ইউনিটের রোল-৫৪২৩৩।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো. একরামুল হামিদ বলেন, আমরা হাসিবের দুটি ইউনিটের খাতা সংগ্রহ করেছি। সে কোনো জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত কিনা সে বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। ইতিমধ্যে তার মা-বাবার মোবাইল নম্বর ও কাগজপত্র রেখে দিয়েছি। মঙ্গলবার সকালে ওকে ডাকা হয়েছিল। তবে সে উপস্থিত হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে হাসিবের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/এএএম