শৈত্যপ্রবাহে নীলফামারীর জনজীবন বিপর্যস্ত

সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের পাটকামুড়ি গ্রামের নিবারণ চন্দ্র রায় (৭০) বলেন, 'রাইতের শিরশির ঠাণ্ডায় নিন (ঘুম) আইসে না বিছিনাত। শীতোত কাজও করিবার পারেছি না। শীত কাটেবার কাপড় কিনিবার টাকা পামো কোনঠে!' রাতে কনকনে ঠাণ্ডা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সকালে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল আকাশ। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার জনজীবন।

একই এলাকার চারু বালা রায়ের (৭৫) বলেন, 'শীতের রাইতোত হামার ভাঙা ঘরের চাটি দিয়া হু হু করি বাতাস ঢুকে। ওইলা ঠাণ্ডাত মোর নিন (ঘুম) হয় না। তাহো একনা আয়শ হইত সকালে যদি বেলাটা দেখা যাইতো। সারাদিন বেলার মুখ দেখায় যায় না।'

এদিকে কনকনে শীতে গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থবাড়ির মানুষেরা। গরু-ছাগল নিয়ে জবুথবু অবস্থায় পড়ে আছেন।

সৈয়দপুর বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গেল এক সপ্তাহে ধরে নীলফামারীতে সর্বনিম্ন ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা বিরাজ করছে। হঠাৎ তা আজ কমে গিয়ে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। গেল দুই দিন ছিল একই অবস্থা। দিনে সূর্যতাপের অভাবে শীত জেকে বসেছে। ফলে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছে।'

আরও পড়ুন: ওয়ানটাইম প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ

জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা এস এ হায়াত বলেন, 'নীলফামারী জেলায় শীতার্ত মানুষের মাঝে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ৪২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ২ হাজার কম্বল বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।'

ইত্তেফাক/নূহু