সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিলাসবহুল শহর দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম তার ছোট মেয়েকে ১১ বছর বয়সেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালামানের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন । এমন অভিযোগ করেছেন তার সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেন। এই বিষয়ে প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেন বলেন, আমাকে কিছু পুলিশ অফিসার জানিয়েছিল যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেখ পরিবার সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এই বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। তবে এই নিয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোন মন্তব্য করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার তথ্য অনুসন্ধানী সিরিজ রায়ে ব্রিটিশ আদালত গত বছর দুই সন্তানকে নিয়ে দুবাই থেকে পালিয়ে আসা প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেনের একগাদা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রিন্সেস হায়া ২০০৪ সালে ৭০ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদের ৬ষ্ঠ স্ত্রী হন। এ দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।
আট মাস আগে ব্রিটিশ হাই কোর্টে এ ‘হাই প্রোফাইল’ মামলার কার্যক্রম শুরু হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে।
‘জনস্বার্থে হওয়া এ মামলা’ নিয়ে রায়ে আদালত বলেন, দুবাইয়ের শাসক যে আদালতের প্রতি খোলামেলা ও সৎ নন, তা প্রমাণিত হয়েছে।
রায় প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে শেখ মোহাম্মদ বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে আমি আদালতের তথ্য অনুসন্ধানী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারিনি। যে কারণে প্রকাশিত রায় একপেশে হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক মামলাটিকে ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ ব্যাপার বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিস্তৃত সাক্ষ্য প্রমাণ ও শুনানি শেষে রায়ে আদালত জানায়, তারা শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অন্য স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া নিজের দুই মেয়েকে অপহরণ ও জোর করে দুবাই ফিরিয়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এদের মধ্যে শেখা শামসা ২০০০ সালে ব্রিটেনের সারি কাউন্টির পারিবারিক বাসভবন থেকে পালিয়ে যান। পরে তাকে ক্যামব্রিজশায়ার থেকে অপহরণ করে দুবাইতে নিয়ে যাওয়া হয় । তার বন্দিদশার কথা জানতে পেরে ব্রিটেনের পুলিশ দুবাইতে তদন্ত করতে চাইলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাতে অনুমতি দেয়নি।
অপর মেয়ে শেখ লতিফা ২০০২ সালে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। ধরা পড়ে যাওয়ার পর তিন বছর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফা পালানোর চেষ্টা করেও ভারতীয় উপকূলের কাছে সমুদ্র থেকে বাবার লোকজনের হাতে ধরা পড়েন লতিফা।
বাবার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে লতিফা যে ভিডিও বার্তা ছেড়েছিলেন, আদালত সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলেও রায় দিয়েছে।
ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা শেখ মোহাম্মদকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উদার শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি দুবাইকে এশিয়ার অন্যতম ব্যবসায়িক হাব বানানোর কৃতিত্বও তাকে দেয়া হয়।
ইত্তেফাক/এআর