‘আমি শীর্ষে থাকতে চাই’

শেষের ঘণ্টা বেজে যাওয়া ২০১৮ সালটা সহজে ভুলতে চাইবেন না আব্দুর রাজ্জাক। চলতি বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়েছে তিনটি। যার দুটিতেই সেরা বোলার বাঁহাতি এই স্পিনার। বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ষষ্ঠ আসরে ৪৩ উইকেট নিয়েছেন। একই টুর্নামেন্টের সদ্য সমাপ্ত সপ্তম আসরে ৩৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২০তম আসরটা খুব ভালো যায়নি। পেয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট।

এর বাইরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মিরপুর টেস্টে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রাজ্জাকের শিকার সর্বমোট ৯১ উইকেট। তাতেই এই ফরম্যাটে ক্রিকেট বিশ্বে বছরের সেরা বোলারদের তালিকায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার।

এই বছরের তৃতীয় সেরা বোলার রাজ্জাক। সর্বোচ্চ ১০৬ উইকেট ইংল্যান্ডের সিমন হারমারের। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাসের ১০৪, দক্ষিণ আফ্রিকার ডুয়ানে ওলিভিয়ের ১০১ উইকেট নিয়েছেন। ৯১টি করে উইকেট নিয়ে রাজ্জাকের পাশে আছেন নিউজিল্যান্ডের জিতান প্যাটেল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেল।

আরেকটা জায়গায় অবশ্য তিনি দ্বিতীয় সেরা। ইনিংসে সর্বোচ্চ ১০ বার পাঁচ উইকেট নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার  মোহাম্মদ আব্বাস। ৯ বার পাঁচ উইকেট নিয়ে আব্বাসের পরই রাজ্জাক। বল হাতে দুর্দান্ত সাফল্যের বছর শেষে এখন বিশ্রামে আছেন ৩৬ বছর বয়সী এই স্পিনার।

এসব রেকর্ডের কথাও ইতোমধ্যে জেনে গেছেন তিনি। গতকাল এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজ্জাক বলেছেন, দলের জন্য অবদান রাখতে, নিজের সন্তুষ্টির জন্য খেলে যাচ্ছেন তিনি। বোলার হিসেবে সব টুর্নামেন্টে উইকেট শিকারের শীর্ষে থাকার লক্ষ্য নিয়েই খেলেন রাজ্জাক। বছর শেষে সেই চেষ্টাই তাকে বছরের বিশ্ব সেরা বোলারদের কাতারে নিয়ে এসেছে। তার নেতৃত্বে এবার প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলও বিসিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বোলিংয়ের সেরাদের তালিকায় উঠে আসা প্রসঙ্গে গতকাল রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমি আসলে ওইরকম হিসেব করে কোনো কিছু করিনি। আমি যখন খেলছি আমার চেষ্টা ছিল দলের রেজাল্টে যেন অবদান রাখতে পারি। এবং ভালোমতো যেন অবদান থাকে। এজন্যই খেলা। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে আমার সন্তুষ্টির জন্য। আমি সন্তুষ্ট থাকতে পারি যাতে।’

এই বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে উইকেট স্পিনারদের জন্য সহায়ক ছিল না বলেই দাবি রাজ্জাকের। স্পিনাররা সবচেয়ে কঠিন বছর কাটিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মৌসুমে যদি বলেন আমাদের স্পিনারদের জন্য বিশেষ করে উইকেট অত ভালো ছিল না। কারণ প্রত্যেকটা উইকেট ঘাসের উইকেট ছিল। আর দুই-একটা উইকেট ছিল যেখানে জীবন্ত ঘাস না থাকলেও যতটুকু ছিল তাতে উইকেট অত ফাটেনি, এবার অত বেশি টার্ন ছিল না। সেদিক থেকে বলবো, স্পিনারদের জন্য সবচেয়ে কঠিন বছর ছিল এবার। তারপরও ভালো হয়েছে আল্লাহর রহমতে। এটা তো আসলেই ভালোলাগার ব্যাপার।’

বছরের শুরুতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের মাইলফলক পার হয়েছিলেন। বছর শেষে ক্যারিয়ারের ১২৮ ম্যাচে রাজ্জাকের উইকেট সংখ্যা এখন ৫৮১। উইকেটের হিসেবে তিনি রাখেন না। প্রতিনিয়ত শীর্ষে থাকার চেষ্টাতেই এগিয়ে যাচ্ছে রাজ্জাক।

গতকাল বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থে বলছি, ৪০০ উইকেট হওয়ার কিছু আগে আমি জানতে পেরেছিলাম আমার উইকেট সংখ্যা। আমাকে বলছিল অনেকে। আমি কখনোই হিসেব করিনি। আমার কাছে মনে হয়, আমি যতক্ষণ খেলবো আমার চাওয়া আমি শীর্ষে থাকতে চাই। সেক্ষেত্রে আমি যদি শীর্ষে থাকি তাহলে সেগুলো তো আমার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানেই যোগ হচ্ছে। এবং বাড়ছে। পরে দেখলে তো ভালো লাগে।’

৩৬ বছর বয়সী এই স্পিনার নিজেও জানেন না কোথায় থামবেন। যতদিন সুস্থ থাকবেন, সবকিছু ঠিক চলবে ততদিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার।