রমজানুল মোবারক

স্বাগতম পবিত্র মাহে রমজান

দেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে শনিবার ২৫ এপ্রিল থেকে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমরা আরেকটি রমজান মাসে প্রবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করছি, আলহামদুলিল্লাহ।

মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা- হে দয়াময় প্রভু! তোমার এ দুর্বল বান্দাদের পাপ ক্ষমা করে রমজানের কল্যাণে বিশ্ব থেকে মহামারি করোনা সহ সব ধরণের বালা-মুসিবত দূর করে দাও। রমজানের জান্নাতি আবহে তোমার নিরাপত্তার চাদরে মুসলিম উম্মাহকে জড়িয়ে নাও।

আমরা সবাই জানি, পবিত্র মাহে রমজান সিয়াম সাধনার মাস, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে একান্ত করে পাবার মাস এবং সকল পাপ ক্ষমার মাস। এই বরকত ও আশিষমণ্ডিত মাসকে লাভ করার জন্য প্রতিটি মুমিন-মুত্তাকী বান্দারা অধির আগ্রহে অপেক্ষমাণ থাকেন।

পবিত্র এ মাসকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক-মাগফিরাতের আর তৃতীয় দশক হলো নাজাতের। আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে। আর এটি হচ্ছে পবিত্র রমজানের প্রথম দশক অর্থাৎ রহমতের দশক। এই দশকে আমাদের সবার মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এ কামনাই হওয়া উচিত যে, তার কাছ থেকে যেন আমরা বেশি বেশি রহমত লাভ করতে পারি এবং তার রহমতে চাদরে যেন আমাদেরকে আবৃত করে রাখেন।

পবিত্র এ রমজানে মুমিন মুত্তাকীদের আধ্যাত্মিক-বাগানে ঘটবে নব-বসন্তের সমারোহ। আর স্বর্গীয় আনন্দে মুমিন মুত্তাকীদের হৃদয় ভুবন আলোকিত হয়ে উঠবে। আল্লাহপাকের পবিত্র বান্দারা জানে যে, এই রহমতের দশকে আল্লাহতায়ালার রহমতের বৃষ্টির পানি দ্বারা তাদেরকে সিক্ত করবেন এবং তাদের তৃষ্ণা মেটাবেন। আর এ কারণেই আল্লাহপাকের নেক বান্দারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত থেকে কখনো নিরাশ হোন না এবং সামান্য অজুহাত দেখিয়ে রোজা পরিত্যাগ করেন না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘হে যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্য সেভাবে রোজা রাখা বিধিবদ্ধ করা হলো, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)। পবিত্র কোরআনের উক্ত আয়াত থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয় তাহলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসাবে রোজা অর্থাৎ উপবাসব্রত পালন করা কোন না কোন আকারে সকল ধর্মেই ছিল, আছে।

পবিত্র মাহে রমজান আসে আমাদের জন্য অবারিত ইবাদত বন্দেগীর বাড়তি সুযোগ নিয়ে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নেক বান্দারা অন্বেষণ করে কিভাবে আল্লাহপাকের নৈকট্য অর্জন করা যায়। ইসলামে রোজার মাহাত্ম্য অতি ব্যাপক। এই মাহাত্ম্য ও মর্যাদাকে বুঝাতে গিয়ে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট দরজা থাকে আর ইবাদতের দরজা হচ্ছে রোজা’ (জামিউস সগীর)। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, ‘রোজা ঢাল স্বরূপ এবং আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপদ দুর্গ’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)।

যদিও আমরা সবাই জানি যে, পবিত্র রমজান বড়ই কল্যাণমণ্ডিত মাস, দোয়ার মাস। তারপরেও আমরা অনেকেই এই মাসের ইবাদত বন্দেগি থেকে গাফেল থাকি। অন্যান্য মাসের মতই এই পবিত্র মাসটিকে হেলায় কাটিয়ে দেই। আমরা যারা পবিত্র এই মাসটিকে লাভ করার তৌফিক লাভ করছি তারা অবশ্যই সৌভাগ্যবান। অনেকেই হয়তো আশায় ছিলেন কিন্তু লাভ করতে পারেননি, না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তাই আমাদেরকে এ মাসের পুরো ফায়দা অর্জন করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাকের দরবারে এই মিনতি করি, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে পবিত্র এই রমজানে তোমার রহমত থেকে আমাদের বঞ্চিত করো না এবং মুসলিম বিশ^কে করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা কর, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

ইত্তেফাক/আরএ