কবরে কলাগাছ পুঁতে ভরাট, লাশের সামনে পেটানো হলো শবযাত্রীদের

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পল্লীতে এক ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধা দিয়ে হামলা করে কবর দিতে আসা ১০/১২ এলাকাবাসীকে পিটিয়ে আহত করার খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জেঠুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনায় রবিবার সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। 

জানা যায়, জেঠুয়া গ্রামের মৃত মোমিন উদ্দীন শেখের ছেলে মো. নূর আলী শেখ (৬০) দীর্ঘ দিন যাবত নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তিনি মারা যান। দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নূর আলী শেখের লাশ দাফন করার সময় বাধা দেন রহমত আকুঞ্জি ও কামরুল আকুঞ্জি। এক পর্যায়ে তারা খোরা কবরটিতে কলাগাছ পুঁতে ভরাট করে দেন। এ সময় এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

নূর আলী শেখের স্ত্রী ফজিলা বেগম জানান, একই গ্রামের মৃত সাদেক আকুঞ্জির ছেলেদের সাথে তাদের ৬৩ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমির ২৭ ও ৬২ সালের রেকর্ড, মাঠপর্চা, নামপত্তন, দাখিলাসহ সকল কাগজপত্র তাদের রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর জমিটি তাদের দখলেও রয়েছে। শুক্রবার সকালে স্বামী হঠাৎ মারা গেলে ওই ভিটেবাড়ি ও কবরস্থানের জমিতে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কবর খোরার কাজও শেষ হয়। 

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিক্ষুক ভবঘুরেদের তালিকায় ইউকে ইউএস প্রবাসীসহ কাউন্সিলরের পরিবার

এরইমধ্যে প্রতিপক্ষরা একই গ্রামের মৃত সাদেক আকুঞ্জির ছেলে কামরুল ইসলাম আকুিঞ্জ, রহমত আকুঞ্জি ও তার ছেলে ওজিয়ার, খোরশেদ আলম ও জুলফিকার আকুঞ্জিসহ ৮/১০ জন এসে আকষ্মিক কবরের মধ্যে কলাগাছ পুঁতে তা ভরাট করে দেয়। এ সময় গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে তারা ফয়েজউদ্দিন (৬৫), রিয়াজউদ্দিন (৬০), বজলু শেখ (৪৫),গফফার শেখ (৫২), আমজাদ শেখ (৫৩), মিজানুর জোর্য়াদ্দার (৫০), মহব্বত শেখসহ (৫৫) সহ ১০/১২ জন প্রতিবেশীকে পিটিয়ে জখম করে।

ফজিলা বেগম আরও জানান, শুক্রবার রাতে আহতদের হাসপাতালে দেখলে আসলে তালা থানার এক এসআই তাকে মারতে উদ্যত হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে ওই দারোগার ভয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

তবে তালা থানার ওই এসআই জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে কাউকে হুমকি দেননি কিংবা গালিগালাজও করেননি।

এদিকে আহতরাসহ এলাকাবাসী জানায়, রহমত গং এই জমির (কবরাস্থানের) ওয়ারিশ নয়, আমাদের জীবদ্দশায় দেখছি মৃত নূরআলী তার নানার ওয়ারিশ সুত্রে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছে। তারা আদৌ এই পরিবারের কেউ নন। কিন্ত দীর্ঘদিন নুর আলীর অসুস্থ্যতার সুযোগে গত বছর তিনেক পূর্ব থেকে রহমত গং ওয়ারিশ দাবি করে জবর দখল করার পায়তারা করে আসছে।

এলাকাবাসী আরও জানায়, বিষয়টি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা প্রশাসনকে অবহিত করলে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এর আগে গ্রামবাসী লাশটির দাফন কাজ সম্পন্ন করেন।

জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু বলেন, জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মো. নূর আলী শেখ ভোগ দখল করে আসছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। 

এ ব্যাপারে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল জানান, বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার চেষ্টা চলছে। 

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, একজন মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধা দেওয়া এবং এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সত্যিই অমানবিক।

ইত্তেফাক/এসি