পীরগঞ্জে ঝড়ে কোটি টাকার আমের ক্ষতি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ঈদের আগের দিন রাতে (রবিবার) কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে প্রায় কোটি টাকার আমের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ২৫ টি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বৃষ্টিতে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী ও চাষিরা জানান, গত রবিবার (২৪ মে) রাত ৯টার থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিন দফা ঝড় ও বৃষ্টি হয়। এতে উপজেলা জগথা, বেগুনগাঁ, ভেলাতৈড়, ভেমটিয়া, বীরহলী, চাপোড়, মালঞ্চা, মছলন্দপুর, ভবানীপুর, পারভবানীপুর, বাজারদেহা, ঘুঘুয়া, আকাশিল, ভুরভুশিকালী, কালোপীর, নিয়ামতপুরসহ ২৫ টি গ্রামে ঝড়ে বড় বড় গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। ঘর-বাড়ি ও মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আম বাগান মালিক মোবাম্বের রশীদ মিঠু, প্রবাল, ফয়েজ, মুকুল, মনসুর কামাল নান্নুসহ কয়েকজন চাষি জানান, বৃষ্টির সাথে ঝড়ে তাদের বাগানের প্রায় ৫০ ভাগ আম মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাদের ক্ষতি কয়েক লক্ষ টাকা।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলায় আমের বাগান আছে এক হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ হেক্টর জমির আম বাগান। এছাড়া ৭ হাজার ৩৫০ হে. এর মধ্যে ১৫০ হে. ধান, ১ হাজার ৬৫০ হে. এর মধ্যে ১৫০ হে. ভুট্টা এবং ১৮০ হে. শাক-সবজি ও পাট, কলা ও তিলসহ উঠতি ফসলেও আংশিক ক্ষতি হয়। এতে উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।  

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পীরগঞ্জের এডিজিএম হাসানুল বান্না জানান, ঝড়ে ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ৪ টি পোল ভেঙে গেছে এবং ৬টি পোল হেলে পড়েছে। এছাড়া গাছের ডাল ও বাঁশ গাছ পড়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার লাইনের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বজ্রপাতে ৩টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়।

পীরগঞ্জ বনবীট কর্মকর্তা আশেক আলী জানান, জেলার ফুসফুস হিসেবে খ্যাত ৫’শ একর জমিতে ৫টি গ্রামের ওপর গড়ে উঠা পীরগঞ্জ বনবীটের প্রকৃতিজ বন শাল বাগানের ছোট বড় কয়েক হাজার গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। এতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে শত শত বছরের পুরনো এ শাল বাগানটি। এছাড়া ঝড়ে বড় একটি শাল গাছ উপড়ে পড়ে বনবীট কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন এফজি (ফরেস্ট গার্ড) কোয়াটারটি ভেঙ্গে গেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

এলাকাবাসী জানায়, ভেঙ্গে পড়া গাছ ও ডালপালা মানুষ ভ্যান ও গাড়িতে করে অবাধে নিয়ে গেলেও বাগানের দায়িত্বে নিয়োজিত দুজন ফরেস্ট গার্ড ও বনবীট কর্মকর্তা তাদের নিবৃত করতে পারেনি। নিরুপায় বনবীট কর্মকর্তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে বাগান রক্ষায় গ্রাম পুলিশ পাঠান সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান। এদিকে ঝড়ে বাগানের বড় ধরনের ক্ষতি হলেও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্যন্ত বাগান পরিদর্শনে আসেনি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।  

আরো পড়ুন: রমেক ল্যাবে র‌্যাব সদস্যসহ আরো ১১ জনের করোনা শনাক্ত

বাগান এলাকার ৮০ বছর বয়সী আখতারুল ইসলাম মেম্বার জানান, এ শাল বাগানের ঝড়ে এতো বড় বড় গাছ উপড়ে পড়তে তিনি এর আগে দেখননি। 

আম বাগান সমিতির খায়রুল ইসলাম জানান, ২৫টি গ্রামে গড়ে উঠা ছোট-বড় দেড় শতাধিক আম বাগানের প্রায় ৫০ হাজার মন আম মাটিতে পড়ে গেছে ঝড়ে। এতে আম চাষিদের প্রায় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব আম চাষিদের প্রণোদনার আওতার আনার দাবি জানান তিনি। 

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, ঝড়ে পারভবানীপুর আদিবাসী গ্রামে ৭টি পরিবারের ঘরের টিন উড়ে ও ৩টি পরিবারের মাটির ঘর ভেঙ্গে গেছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের কাজ চলছে। ২-১ দিনে পর জানা যাবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। 

জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, ক্ষয়ক্ষতি রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সাহায্য করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ইত্তেফাক/এএএম