জেলায় নতুন করে আরও ৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচবিবিতে ১২ জন, ক্ষেতলাল উপজেলায় ১৫ জন, আক্কেলপুরে ৪ জন ও সদরে একজন।।
বুধবার সকালে সিভিল সার্জন ডা: সেলিম মিঞা তথ্যটি নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হলো ১৬৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুম সূত্র থেকে জানা গেছে, বগুড়া এবং ঢাকা থেকে পৃথক ভাবে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে ৫৯৮ টি। এরমধ্যে ৩২ টি পজিটিভ পাওয়া যায়। উপজেলা ভিত্তিক করোনা শনাক্ত রোগীর মধ্যে রয়েছে কালাই উপজেলায় ৪৮ জন, সদর উপজেলায় ২৮ জন, আক্কেলপুরে ২৭ জন, পাঁচবিবিতে ২৮ জন ও ক্ষেতলাল উপজেলায় ৩৪ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ জন। করোনা শনাক্তদের স্থানীয় গোপীনাথপুর হেলথ অব টেকনোলজিতে স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে ( যার নাম দেওয়া হয়েছে সেফ অতিথিশালা) রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত করোনা যুদ্ধে জয়লাভ করে এখান থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন ৩৭ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় বর্তমানে সরকারি ৪ টি চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৪০টি বেড করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় জেলায় ১৪ জন ডাক্তার ও ১৪ জন নার্স পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৪৭৩ সেট ও বিতরণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ সেট। করোনা শনাক্ত ব্যক্তির জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের জন্য ২টি এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার হচ্ছে। চিকিৎসক ও সেবিকাদের চলাচলের জন্য ২টি গাড়ি এবং সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে ২টি মাইক্রোবাস জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। জেলায় ৩টি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও ১টি আইসোলেশান সেন্টারের জন্য স্থানীয় তহবিলের অর্থায়নে ৫জন ল্যাব টেকনিশিয়ান, ১৪ জন আনসার, ৪ জন আয়া ও ৩ জন বেসরকারি ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দাপুর গ্রামে প্রথম দুই করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলাকে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়। বুধবার নতুন করে আরও ৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় জেলায় মোট করোনায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৫ জনে। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত এখন জয়পুরহাট জেলায়।
ইত্তেফাক/এমআরএম