ছুটি আর বাড়বে না; এমন ঘোষণার পর বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের ঢল নামে দৌলতদিয়া ঘাটে। দূর পাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত ও ভাড়ায় চালিত ছোট গাড়ির চাপ বাড়ছে ফেরিঘাটে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পর থেকে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এদিকে লঞ্চ বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা করোনার ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ফেরিতে নদী পারাপার হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মমূখী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ঈদের ছুটিতে যাহারা বাড়ি আসতে পারেননি তারা এখন ঢাকা ছাড়ছেন। এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, ব্যাটারি চালিত অটোবাইক, মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে নদী পার হয়ে ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বাড়ি ফিরলেন আটকে পড়া ১০৯ ভারতীয়
মাগুরা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা রাজিয়া বেগম জানান, জীবনের তাগিদে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছি। আজকে অফিস খোলা, দেরি হয়ে গেছে। তবুও যেভাবেই হোক আজকের মধ্যে অফিসে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ্ রনি জানান, দৌলতদিয়া পয়েন্টে মোট ৬টি ঘাটের ১ নম্বর ও ২ নম্বর ঘাট দুটি বন্ধ আছে। অন্য চারটি ঘাট সচল রয়েছে। এই নৌপথে বর্তমান ছোট-বড় ১৪টি ফেরি রয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ফেরি ঘাটের একটি পল্টুনের র্যাম ডুবে যাওয়ায় ৯টি ফেরি সচল রয়েছে। পল্টুনের র্যাম স্থানান্তরের কাজ চলছে, কাজ শেষ হলে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি