নিজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধনী রাষ্ট্রে থাকা মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তহবিল সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েক। বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৬ থেকেই তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে আবারো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তহবিল গঠনের অভিযোগ উঠলো।
জাকির নায়েকের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি পূর্ব-পরিচিত এক কাতারের নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন জাকির। আবদুল্লাহ আলি আল ইমাদি নামে ওই ব্যক্তির কাছে থেকে তিনি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান চেয়েছেন। পাশাপাশি জাকির নায়েকের আরেক ঘনিষ্ঠ কাতারের নাগরিক মুহাম্মদ সিদ্দিক আল ইমাদি তারই জন্য সেখানকার ধনী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করছেন।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে অনুদান চাওয়াই নয়, জানা গেছে তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জাকির নায়েককে জন্য তহবিল সংগ্রহে কাজ করছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জাকির নায়েক মালয়েশিয়ায় যে সুযোগ-সুবিধাসহ আশ্রয় পেয়েছেন, তার পিছনে পাকিস্তানের অবদান রয়েছে। এমনকি এখন পাকিস্তান তার কর্মকাণ্ডের জন্য তুরস্ক ও কাতারের মতো দেশগুলো থেকে বড় অঙ্কের তহবিল যোগার করে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে ইসলাম প্রচার করে আসছিলেন দেশটির অন্যতম ইসলাম প্রচারক জাকির নায়েক। ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তিনি একাধারে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পিস টিভি ও ইসলামিক টিভির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর তার বিশ্লেষণ ও বক্তব্য অগণিত মানুষকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের গুলশানে ঘটে যাওয়া হলি আর্টিসান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় অংশ নেয়া দুই বাংলাদেশি, নিব্রাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ তার বক্তব্যের দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে জানা যায়।
এই জঙ্গি হামলার জের ধরেই সেই বছর ভারত ও বাংলাদেশে পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় একই সময়ে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। এ সময় তিনি ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেন। দ্য ইকনোমিক টাইমস।
ইত্তেফাক/আরএ