জাতিসংঘ প্রতিবেদন প্রমাণ করে, জঙ্গিদের সহায়তা করে পাকিস্তান: ভারত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দেয়া তথ্যানুসারে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে পাকিস্তান সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের সহায়তা করে আসছে পাকিস্তান। আর এবার তার প্রমাণ মিলছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রতিবেদনে।

পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়েবা যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের সমঝোতা হুমকির মুখে ফেলছে বিদেশ থেকে নতুন করে জঙ্গিদের আফগানিস্তানে নিয়ে এসে।

জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রিবাস্থভ বলেন, 'ভারত দীর্ঘদিন যাবত দাবি করে আসছিলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার কথা যা এই ঘটনায় আরো একবার প্রমাণ হলো।'

তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় সহায়তায় পাকিস্তানে নিরাপদে থেকে এই জঙ্গি সংগঠন ও সন্ত্রাসীরা তাদের দুষ্কৃতকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, 'আঞ্চলিকভাবে এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তান জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের নিয়ম ভাঙ্গার পাশাপাশি জঙ্গি অর্থায়নের পথ বন্ধ না করে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের নিয়মও ভঙ্গ করেছে।' তিনি মনে করেন, সে কারণেই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত পাকিস্তানকে এই বিষয়গুলোর জন্য দায়ী করে দেশটি থেকে স্থায়ীভাবে ও নিশ্চিতভাবে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্টতা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৫তম প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুসারে আইএসআইএল (দায়েশ), আল-কায়েদা এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা বাড়ছে। শ্রীবাস্থভ বলেন, 'আফগানিস্তানে জাতিসংঘ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সংশ্লিষ্টতা এবং দেশটিতে ৬,৫০০ জনের বেশি পাকিস্তানি নাগরিকের জঙ্গি হিসেবে যোগ দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি আমরা।'

জাতিসংঘ প্রতিবেদন অনুসারে, আফগান কর্তৃপক্ষের জন্য সবচাইতে বড় হুমকি তাহরিক-এ-তালেবান (টিটিপি), জেইএম এবং এলইটি। এই তিন গোষ্ঠী আফগানিস্তানের তালেবানদের ছত্র ছায়ায় দেশটির কুনর, নানগারহার এবং নূরিস্তান প্রদেশে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে জেইএম ও এলইটি আফগানিস্তানের দেশের বাহির থেকে পরামর্শক, প্রশিক্ষক এবং বোম তৈরি বিশেষজ্ঞ জঙ্গিদের প্রবেশে সহায়তা করে আসছে। এই উভয় গোষ্ঠীর লক্ষ বস্তুতে রয়েছে আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা। দেশটির নানগারহার প্রদেশে লস্কর-ই তৈয়েবা এবং জয়েস-ই-মোহাম্মদ এর যথাক্রমে ৮০০ ও ২০০ সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে।

এ ছাড়াও কুনোর প্রদেশে এই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর আরো প্রায় ১৮০ সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে যারা তালেবানদের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে।

বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা কালেও আল-কায়েদা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তালেবানরা। সমঝোতা অনুসারে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে এবং তালেবানরা জঙ্গি হামলা চালাবে না। এভাবে দেশটিতে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

কান্দাহারে ২১ সহযোগীর সঙ্গে আটক হওয়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) খোরশানি অধ্যায়ের কমান্ডার আব্দুল্লাহ ওরকজাইর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসে আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওহিরি সাক্ষাত করেছে।

ইত্তেফাক/আরএ