তারকা ক্রিকেটারে ভরপুর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর মান আরো বাড়বে বলে মনে করেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক ও খুলনার কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনা। গতকাল সকালে বিসিবি একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে বিপিএলের পথচলা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
টেস্ট খেলুড়ে প্রায় সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডেরই নিজস্ব টি-টোয়েন্টি লিগ রয়েছে। তাই সারা বছরই বিভিন্ন সময় চলতে থাকে টি-টোয়েন্টি লিগগুলো। দেখতে দেখতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পাঁচটি আসর কেটে গেছে। আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসর।
অতীতের তুলনায় এবারের আসর অনেক বেশি তারকা ক্রিকেটারে ভরপুর। বিভিন্ন দলে বড় বড় তারকা ক্রিকেটার রয়েছেন। নামি-দামি কোচরাও বিপিএলের ছাতায় অবস্থান করছেন। যেমনটা এবার বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ, ক্যারিবিয়ান ওপেনার এভিন লুইস, পাকিস্তানের শোয়েব মালিক-শহীদ আফ্রিদিরা খেলবেন। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, অ্যালেক্স হেলসরা মাঠ মাতাবেন। সিলেট সিক্সার্সের জার্সিতে দেখা যাবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে।
কোচদের তালিকায় আছেন টম মুডি, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ওয়াকার ইউনুসরা। খুলনা টাইটান্সের কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো বিপিএল সঠিক পথেই আছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আগের চেয়ে ভালো। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে খুলনার হেড কোচ হিসেবে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার এই সাবেক অধিনায়ক।
গতকাল সকালে বিসিবি একাডেমি মাঠে জয়াবর্ধনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করে খুলনা। স্মিথ-ওয়ার্নার-গেইল-ডি ভিলিয়ার্সদের উপস্থিতি বিপিএলের মানকে আরও উপরে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জয়াবর্ধনে। অনুশীলন শেষে বিপিএলের পথচলা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মানুষ দেখছে টুর্নামেন্টটা এবং এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ভালো। গত দুই বছর ধরে সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। খেলোয়াড়রা আসছে সুযোগ থাকলেই। এসব ভালো খেলোয়াড়দের (স্মিথ-ওয়ার্নাররা) পাওয়া বিপিএলের জন্য ভালো। অনেক কিছু শিখতে এসব খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলা বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও ভালো সুযোগ।’
তবে খুলনা বরাবরের মতোই মাঝারি মানের দল গড়েছে। সেখানে ক্রিকেট দুনিয়ার বড় কোনো তারকা নেই। কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সঙ্গে এক ঝাঁক তরুণকে নিয়ে দল গড়েছে খুলনা। জয়াবর্ধনে অবশ্য তারকা নয় দলীয় চেষ্টার উপরই বিশ্বাস রাখছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আসলে দলীয় প্রচেষ্টার উপর বিশ্বাস রাখছি। গত বছর ভালো সময় কেটেছে। ছেলেরা সবাই অবদান রাখছিল। আমরা এখনও দল হিসেবে বিশ্বাস করি, যদি আপনি ভালো পারফর্ম করেন তাহলে আমরা ম্যাচ জিততে পারবো।’
গত আসরেও প্লে-অফে খেলেছিল খুলনা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে এবার আগের বছরের মতোই ভালো পারফর্ম করতে চায় দলটি। প্লে-অফ ছাড়িয়ে ফাইনালের মঞ্চে যাওয়ার টার্গেট করছে খুলনা। দলটা নিয়েও সন্তুষ্ট কোচ জয়াবর্ধনে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে দল পেয়েছি তাতে খুশি, যেখানে দারুণ সব প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। আমরা উদ্দীপ্ত বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার পেয়ে। আমরা চেষ্টা করবো নিজেদের এগিয়ে নিতে যেভাবে আমরা গত বছর করেছিলাম।’
খুলনার হয়ে খেলবেন বাংলাদেশ যুবদলের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম। যার বোলিং নিয়ে বেশ আশাবাদী জয়াবর্ধনে। তাইজুল ইসলামের মতো স্পিনারকে পেয়েও খুশি লঙ্কান এই কোচ। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘তারা খুব ভালো। তাদের কেনার আগে আমরা ভালোভাবে দেখেছি। আমরা হোম ওয়ার্ক করেছি। আমরা দেখেছি শরীফুল ইমার্জিং কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে কি করেছে। সেজন্যই তাকে আমরা কিনেছিলাম। তাকে পেয়ে আমরা খুশি। তাইজুলের মতো কাউকে পাওয়াও খুব ভালো কিছু। এছাড়াও দলে এমন অনেকে আছে যারা ইমার্জিং দলে ছিল।’