সাধারণ মানুষের পাশে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় বহির্বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনায় ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সব অনুমান ও ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণিত করেছেন তিনি। এর অন্যতম কারণ তার নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মী ও নেত্রীবৃন্দ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো।

 

মার্চ মাসে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত এবং তারপর প্রায় পাঁচ মাস আংশিক লকডাইনে পরিচালিত হচ্ছে দেশের সার্বিক কার্যক্রম। এ সময়ে সারা দেশে সরকারি সহায়তার বাইরে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি ১০ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে পিপিই, চশমা, মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড গ্লাভস, ফিনাইল, হ্যান্ড সেনিটাইজার, ব্লিচিং পাউডার, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিত্সাসামগ্রী। এছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের অন্য সিটি করপোরেশনগুলোতে ওয়ার্ড পর্যায়ে দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে খাদ্যসহায়তা।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যুবলীগ এই করোনা মাহামারিকালে খাদ্যসহায়তা প্রদান করেছে ৪২ লাখ দরিদ্র পরিবারের কাছে। এ ছাড়াও যুবলীগের উদ্যোগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের দাফনের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ টিম। করোনার কারণে যখন দেশের উত্তরবঙ্গ, বরিশাল ও যশোর অঞ্চলে শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের বিষয়ে শঙ্কা দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গামছা মাথায় দিয়ে ধান কাটতে খেতে নামেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এই মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটে সংগঠনটির সদস্যরা। এ ছাড়াও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ঈদের সময় হিজড়া ও অসহায়দের সহায়তা প্রদান, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেলি মেডিসিন সেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণের কাজ করে যুবলীগ। এ সময় বাংলাদেশ কৃষক লীগের পক্ষ থেকে প্রায় ২৯ হাজার কৃষককে প্রদান করা হয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। ১১ এপ্রিল থেকে বোরো ধান কাটার জন্য ২২টি হটলাইন সার্ভিস চালুর মাধ্যম কৃষকদের সেবা প্রদান করে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৭০ জন কৃষিশ্রমিক প্রেরণের কাজ সমন্বয় করেছে।

মানবসেবার ব্রত নিয়ে গঠিত আওয়ামী লীগের অপর সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহামারি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে ১০ লাখ অসহায় ও দুস্থ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা প্রদান করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দেশে ২৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখান থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন ১ হাজার ২৪০ জন। করোনা রোগীর লাশ গোসল, দাফন, জানাজা বা সত্কার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের টিম কাজ করছে। এছাড়া রমজান ও ঈদে মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে অসহায়দের ঈদ উপহার প্রদান ও ঈদের খাবার প্রদান করে আওয়ামী লীগের এই অঙ্গসংগঠনটি। এদিকে তারুণ্যের উদ্যম নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাক্রমে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ছাত্রলীগ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ৬ লাখ ৪৭ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ঈদের আগে ছিন্নমূল, অসহায়, দরিদ্র মানুষের মধ্যে ঈদ উপহার তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি রমজান মাস জুড়ে দেশব্যাপী সেহরি ও ইফতার বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন তারা। তাদের উল্লেখযোগ্য আরেকটি কাজ দেশব্যাপী প্রায় ১৮ হাজার ৫৫০ জন হিজড়া সম্প্র্রদায়ের মধ্যে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা। উপকূলীয় অঞ্চলে আম্ফান-পূর্ববর্তী সময়ে সচেতনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে উত্সাহ প্রদান করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আম্ফান-পরবর্তী সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলের ২৫ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতসহ ৪ লক্ষাধিক মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ বাসা ও মেসভাড়াসংক্রান্ত সমস্যায় ২ হাজার ২২৭ শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করে। তাদের চালু করা ‘হ্যালো ছাত্রলীগ সেবা’ অ্যাপসের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ২ লাখ ৯২ হাজারেরও বেশি মানুষ সহায়তা গ্রহণ করেছে।

করোনা ভাইরাসের সংকটকালে সারাদেশে ৭ লাখের বেশি নিরন্ন ও ভাসমান শ্রমিকদের খাদ্যসহায়তা দিয়েছে জাতীয় শ্রমিক লীগ। এ ছাড়াও শ্রমিকদের এই সংগঠনটি স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ৬৫ হাজার শ্রমিকের কাছে মাস্ক বিতরণ করেছে। করোনায় সবচাইতে অসহায় এই শ্রেণির জন্য রমজানে সারাদেশে প্রায় ৭৬ হাজার ইফতারি বিতরণ করা হয়। করোনার পাশাপাশি বর্তমানে দেশের মানুষের জন্য নতুন সমস্যা বন্যা। বন্যা মোকাবিলায় নেতাকর্মী ও সংগঠনগুলোকে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

সারাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কতজন নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং কতজন মারা গেছেন, দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরে সেই তথ্য এখন পর্যন্ত নেই। অনেকে জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়েই করোনা আক্রান্ত হয়ে শহীদ হয়েছেন। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

n লেখক : সাংবাদিক