বার্সেলোনা-ন্যাপোলি ও বায়ার্ন মিউনিখ-চেলসির শেষ ষোলোয় লড়াইয়ের খণ্ডাংশের নিষ্পত্তি হয়ে যেতেই মিলে গেছে চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটের পক্ষ-বিপক্ষ। করোনার কারণে সংকুচিত ‘টুর্নামেন্ট কাঠামো’য় এবার বায়ার্ন মিউনিখ-বার্সেলোনার মতো বনেদি দলগুলোর পাশাপাশি দারুণ সুযোগ থাকছে কখনোই শিরোপা না জেতা ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজি কিংবা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মতো দলগুলোরও। নতুন আদলের এই ‘ফাইনাল এইট’ এর আগে দেখে নেওয়া যাক শিরোপা দৌড়ে কাদের সম্ভাবনা কতখানি। লিখেছেন নেয়ামত উল্লাহ
ট্রেবলের হাতছানি অদম্য বায়ার্নের
বায়ার্ন মিউনিখ লকডাউনের পর মাঠে ফিরে এখন পর্যন্ত একটা ম্যাচেও হারেনি। শেষ ষোলোয় চেলসিকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার স্মৃতি তো এখনো তরতাজা! নতুন কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে দারুণ মানিয়ে নেয়া ব্যাভারিয়ানদের অদম্য পারফরম্যান্সের মূলে রবার্ট লেভান্ডোভস্কি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৫৩ গোল করা পোলিশ এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারসেরা ফর্ম চলতি মৌসুমে শিরোপার জোরালো দাবি তুলেছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। সেটা হয়ে গেলে এর আগে বুন্ডেসলিগা ও ডিএফবি পোকাল জেতা বায়ার্ন হবে বার্সেলোনার পর দুইবার ট্রেবল জেতা ইতিহাসের দ্বিতীয় দল।
পিএসজির চোখ কোয়াড্রুপলে
প্রায় পাঁচ মাস খেলার বাইরে থাকা সত্ত্বেও খেলায় যে মরিচা ধরেনি তা ঘরোয়া দুটো শিরোপার ফাইনাল জিতে দেখিয়েছে পিএসজি। সঙ্গে অসমাপ্ত মৌসুমের লিগ শিরোপা জিতে ‘ট্রেবল’ নিশ্চিত করে দলটি। এবার চোখ অভূতপূর্ব ‘কোয়াড্রুপলে’। কিলিয়ান এমবাপে চোটে থাকলেও নেইমারের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ দলকে শিরোপার দাবিদার করে তুলেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের।
সাবেলা হবেন সেতিয়েন?
শেষ এক দশকে দারুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়েও কোনো শিরোপা না জেতা আর্জেন্টিনার সেরা সাফল্য ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা।
সেবার দুর্দান্ত আক্রমণভাগ থাকা সত্ত্বেও কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা হেঁটেছিলেন রক্ষণাত্মক পথে। ন্যাপোলি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দলের রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স তেমন কিছুর সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে কোচ কিকে সেতিয়েনের বার্সেলোনার সামনে।
বুড়ো হয়ে যাওয়া দল নিয়ে পুরো ৯০ মিনিট প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা আপাতত অসম্ভব লিওনেল মেসিদের। তাই রক্ষণাত্মক কৌশলেই আশা দেখতে পারে বার্সেলোনা।
গার্দিওলা-সিমিওনের অন্যরকম আশা
গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতার আগে দুই বার ফাইনালে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল কোচ য়ুর্গেন ক্লপের। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কোচদের মধ্যে এমন ‘অভিজ্ঞ’ আছেন দিয়েগো সিমিওনে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে নিয়ে দুইবার ফাইনালে হেরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। চ্যামিপয়ন্স লিগে ‘শত্রু’ রিয়াল আর রোনালদোর অনুপস্থিতি, ‘ল অব অ্যাভারেজ’ আর সংকুচিত কাঠামো তাই দারুণ আশা দেখাচ্ছে সিমিওনের দলকে।
একইভাবে ‘ল অব অ্যাভারেজ’ আশা দেখাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি ও পেপ গার্দিওলাকে। ২০১১ সালে শিরোপাজয়ের পর দুইবার সেমিফাইনালে উঠলেও শিরোপার দেখা মেলেনি এই স্পানিশের। এদিকে সিটিও এবার লিগ হারিয়ে পুরো মনোযোগী চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই। গার্দিওলার অভিজ্ঞতা, ‘ল অব অ্যাভারেজ’ আর সিটির দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিস্থিতি তাই সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটিকে।
সম্ভাবনা দেখছে আতালান্তা-লিপজিগ
ছোট হয়ে আসা পরিসর ‘ছোট’ দলগুলোর সম্ভাবনা বাড়ায় যে কোনো খেলায়। করোনা ভাইরাসের কারণে সংকুচিত হয়ে আসা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ঘটছে তেমনই কিছু। নিজেদের দিনে যে কেউ হারাতে পারে যে কাউকে, সুযোগ নেই দ্বিতীয় লেগে পুশিয়ে দেওয়ার। প্রথমবারের মতো নকআউটে আসা আতালান্তা কিংবা রেডবুল লাইপজিগকেও তাই খাটো করে দেখার জো নেই। তিন ম্যাচেরই তো ব্যাপার মাত্র!