কয়েক দফা বন্যায় সিরাজগঞ্জের গবাদী পশুর খামারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলায় সব উপজেলায় কমবেশি পশু পালণ করা হলেও শাহজাপুরে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা গবাদী পশুর খামারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর বন্যায় জেলায় আট হাজার ৫৬২ একর চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গো খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
খামারীরা জানিয়েছেন, এক আঁটি খড় (একশ মুঠা) সাত থেকে আটশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও এর দাম আরও বেশি। পর্যাপ্ত খাবারের যোগান দিতে না পাড়ায় কমে গেছে দুধের উৎপাদন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের খামারী আফাজ উদ্দিন জানান, কয়েক মাস ধরে বন্যার পানিতে চারণ ভূমিগুলো ডুবে থাকায় গরুগুলো বাথানে নেওয়া যাচ্ছেনা। আবার খাবারের দামও বেড়ে যাওয়ায় যথেষ্ট পরিমাণ খাবার দিতে না পাড়ায় দুধের উৎপাদন কমে গেছে।
আরও পড়ুন: জলঢাকায় নদী পুনঃখননে বদলাচ্ছে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ভাগ্য
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলুটিয়া চরের কৃষক আজিম উদ্দিন বলেন, তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন দুটি গাভী। বাড়িতে বন্যার পানি উঠায় গরু দুটি নিয়ে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। এই অবস্থায় গরুর খাদ্য সঙ্কট তার সমস্যা আরও প্রকট করে তুলেছে। এ অবস্থায় অনেকেই গবাদি পশু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। খড়, ঘাস ও দানাদার খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় নগদ টাকা না থাকায় কিনে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
রাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাসের কাটিং লাগানো হবে । ইতিমধ্যে সরকারিভাবে গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যেও জন্য ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং তা বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া ১০ লাখ গবাদি পশু ও ৭০ লাখ হাঁস- মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি